Wednesday, 10 April 2013

রেলে নাশকতা ঠেকাতে সশস্ত্র নিরাপত্তাবাহিনী

ছবিস্বত্ত্ব : বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোরডটকম
চট্টগ্রাম: রেলে নাশকতা ঠেকাতে প্রস্তুত থাকছে সশস্ত্র নিরাপত্তাবাহিনী। পূর্বে কেবলমাত্র যাত্রীদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকলেও এখন সব ধরণের নাশকতা ঠেকাতে কাজ করবে তারা। এছাড়া রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে রেললাইনে কর্মরত পাহারাদারদেরও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কোন স্থানে নাশকতার আশঙ্কা দেখা দিলেই ছুটে যাবেন নিরাপত্তা বাহিনী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা দেলাওয়ার সাঈদীর ফাঁসির আদেশ দেয়ার পর থেকেই রেললাইন ধরে নাশকাত শুরু হয়। এতে যাত্রী হয়রানির পাশাপাশি বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে গত ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে ৯৮ দফা নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এতে রেলের ক্ষতি হয়েছে ১৫কোটি টাকা। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৩৮টি। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক(জিএম) মো.তাফাজ্জল হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,‘আগে কেউ রেলে নাশকতা করবে এটা ভাবতেও পারতো না। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রেলে নাশকতা ঘটনা বেড়ে গেছে।’ যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং রেলের সম্পদ রক্ষায় রেলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন,‘আগেও নিরাপত্তা বাহিনী ছিল তবে তখন ইঞ্জিনে বা রেল লাইনে কোন সমস্যা হলে তা দেখতো না। এখন থেকে যেখানেই সমস্যা হোক তারা ভূমিকা ‍রাখবে।’ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো.নজরুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, সম্প্রতি নাশকতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রেনে আটজন সশস্ত্র পুলিশ থাকছে। তারা প্রয়োজনে ইঞ্জিন কক্ষেও অবস্থান নেবেন। তিনি বলেন,‘রেলের নিরাপত্তা বাহিনীরা আগে কেবল বগিতে যাত্রীদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকতো। এখন থেকে ইঞ্জিন, বগি, রেললাইন সবখানে তারা নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবে।’ সম্প্রতি রেলে সংঘটিত নাশকতার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন,‘ ট্রেনে আগুন দেওয়া, রেললাইন উপড়ে ফেলা বা এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লেই সশস্ত্র পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে দুষ্কৃতকারীদের প্রতিহত করবে।’ রেলওয়ে সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রেললাইন উপড়ে ফেলা, কোচ ও ইঞ্জিনে আগুন দেওয়াসহ নাশকতা শুরু হয়। ওইদিন কেবল পূর্বাঞ্চলেই ১০টি নাশকতার ঘটনা ঘটে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্বাঞ্চলে রেলে দুষ্কৃতিকারীদের দেয়া আগুন, রেললাইন উপড়ে ফেলা, দুর্ঘটনা ও রেল চলাচলে বাধার কারণে সংঘঠিত ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে দেখা গেছে একদিনেই রেলের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায় ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ৫৬টি নাশকতার ঘটনা ঘটে। এতে রেলের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জানান, এ পর্যন্ত সর্বমোট ৯৮টি নাশকতার ঘটনায় ১৫ কোটি টাকা রেলের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।