Friday, 19 April 2013

বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাস করতে পারছে না বিএসসি‘র জাহাজ

চট্টগ্রাম: সমুদ্র উত্তাল থাকায় বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাস করতে পারছে না বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ। বুধবার পণ্য খালাসের জন্য গেলেও কাজ বন্ধ রয়েছে বাংলার মমতায়। এছাড়া আরো তিনটি জাহাজ অপেক্ষমান রয়েছে। এদিকে বিশেষ ব্যবস্থায় পণ্য খালাসের জন্য আরো দুটি শিল্প গ্রুপ বিএসসির সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে। টিকে ও এস আলম গ্রুপ এ চুক্তি করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মুকসুমুল কাদের।
তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,‘সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায় বুধবার পণ্য খালাসের জন্য ‘বাংলার মমতা‘ বহির্নোঙ্গরে গেলেও খালাস কাজ বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিত স্বাভাবিক হলে কাজ শুরু হবে।’ তিনি জানান, মমতা ছাড়াও আরো তিনটি হাজার পণ্য খালাসের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এরমধ্যে ‘বাংলার মায়া’ পণ্য খালাসের জন্য গিয়েছে। শুক্রবার ‘বাংলার গৌরব’ও যাবে। এদিকে শ্রমিক ও মালিক পক্ষ কোন ধরণের ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারায় লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিকদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। এ নাজুক অবস্থায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পণ্য খালাস করতে ৬টি জাহাজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন। বুধবার থেকে একটি জাহাজ কাজ শুরু করার কথা থাকলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শুরু করতে পারেনি। এছাড়া বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য নিয়ে যাওয়ার জন্য লাইটারেজ জাহাজ ভাড়া চেয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে আগ্রহীদের যোগাযোগ করতে বলেছেন। এ বিষয়ে কমোডর মুকসুমুল কাদের বলেন, ‘আমরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পরিবহণের জন্য লাইটারেজ জাহাজ ভাড়া চেয়েছি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন জাহাজের মালিক যোগাযোগ করেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কারো সঙ্গে চুক্তি হয়নি। তবে শিল্প মালিকরা শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়ায় ১৩০টি লাইটার জাহাজের শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। বাকি প্রায় ১২শ জাহাজের শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। এদিকে পণ্যবাহী জাহাজ বন্দরে অবস্থান করার কারণে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। এ টাকা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ঘাড়ে গিয়ে পড়বে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্য খালাস করতে না পারায় বন্দরে ডেমারেজ দিতে হচ্ছে। যা আমদানি পণ্যের উপর গিয়ে পড়বে। শেষ পর্যন্ত এ টাকা ভোক্তাদেরকেই দিতে হবে। কর্মবিরতি অব্যাহত থাকার কারণে সাধারণ পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে জাহাজজট সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেইসাথে দেশের সামগ্রিক নৌপরিবহনে বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় নৌ মন্ত্রণালয়ে কয়েকদফা আলোচনা হলেও কোন ধরণের সুরাহা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম আসছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান। শুক্রবার রাত ৯টায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রী চট্টগ্রাম পৌঁছার কথা রয়েছে। সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রাম বন্দরের রেস্ট হাউসে ‘চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গর থেকে আমদানিকৃত পণ্য লাইটারিং জাহাজের মাধ্যমে খালাস কার্যক্রম’ সংক্রান্ত বৈঠকে বসবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সমুদ্র অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সিমেন্ট ক্লিংকার আমদানি কারক শিল্প মালিকরা বৈঠকে বসলেও কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি বলে জানা গেছে। আগামী রোববার আবারো বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল মূল বেতনের ২০ শতাংশ বৃদ্ধি ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি শুরু হলে শিল্পমালিকরা তাদের শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি মেনে নেয়। পাশাপাশি সাধারণ জাহাজ মালিকদেরও কেউ কেউ এ দাবি মেনে নেন। কিন্তু ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের চাপের কারণে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে না পারায় তাদের জাহাজ চলাচলও বন্ধ রয়েছে।