Saturday, 27 April 2013

চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ বাণিজ্যিক ভবন সিলগালা

চট্টগ্রাম: বন্দরনগরীর আগ্রাবাদে ঝুঁকিপূর্ণ চারতলা জেকস ভবন সিলগালা করে দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ভবনে অবস্থিত দু’টি পোশাক তৈরি কারখানা, একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শাখা অফিস এবং ৩২টি দোকান সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে ভবনের সব ফটকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে সময় না দিয়ে ভবনের সকল প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়ায় দোকান ভাড়াটিয়ারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষে এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম আবদুল কাদের।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভবনটির বিভিন্ন জায়গায় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং একপাশে দেবে গেছে। তাই জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ভবনটি সিলগালা করে দেওয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।’ভবন সিলগালা করার সময় সেখানে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে শিল্প পুলিশ শনিবার জেকস ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় অবস্থিত দু’টি পোশাক তৈরির কারখানা এবং ভবনে অবস্থিত সকল প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে ভবন মালিক ও পোশাক তৈরি কারখানার মালিককে নোটিশ দেয়। এ নোটিশে(স্মারক নং-ইন্ড্রাস্টিয়াল পুলিশ-৩/ইন্টে/২০১৩/৩২৭/১(৩) বলা হয়েছে, জেকস ভবনের সামনের অংশ, পশ্চিম পাশে এবং ভবনের ভেতরে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ভবনের কয়েকটি জায়গায় দেওয়াল ধসে পড়েছে। তাই জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে ও ঝুঁকি এড়াতে এ ভবনের অবস্থিত সকল প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

নগরীর আগ্রাবাদের শেখ মুজিব রোডে অবস্থিত জেকস ভবনের মালিক হচ্ছেন আট ভাই। ভাইদের পক্ষে শেখ খুরশীদ আনোয়ার বাংলানিউজকে বলেন, ‘১৯৮৫ সালের দিকে এ ভবনটি তৈরি করা হয়। কয়েক বছর আগে ভবনটিতে ফাটল দেখা যায়। নিরাপত্তাজনিত কারণে এ ব্যাপারে আমরা লিখিতভাবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরে চউক বিষয়টি সিটি কর্পোরেশনকে জানায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন ভবন ভেঙে ফেলার জন্য আমাদের গত ৫ মার্চ একটি চিঠি দেয়। চিঠিতে স্বউদ্যোগে ভবনটি ভেঙে ফেলার জন্য বলা হয়। অন্যাথায় কর্পোরেশন নিজ উদ্যোগে অপসারণ করবে এবং সমস্ত খরচ আমাদের কাছ থেকে আদায় করার ঘোষণা দেওয়া হয়।’

কয়েকবার চেষ্টা করলেও দোকান ভাড়াটিয়াদের প্রতিবাদের মুখে ভবন অপসারণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। এদিকে শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবনটি সিলগালা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম আবদুল কাদের সেখানে উপস্থিত হন। তার কাছে দোকানের মালিকরা মালামাল সরানোর জন্য দু’দিন সময় চান। কিন্তু তিনি সময় দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

এ প্রসঙ্গে এডিসি আবদুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন,‘আমরা কোনো উচ্ছেদ অভিযানে আসিনি। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সিলগালা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রকৌশলীদের দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর ভবনে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন,‘সাভারের মত যাতে আর কোনো ট্র্যাজেডি না ঘটে, এজন্য ভবনটি দ্রুত সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।’ অবশ্য দোকানের মালামাল সরানোর জন্য তিনি তাদেরকে ‍তাৎক্ষণিক ২০মিনিট সময় দেন। এসময় অনেক ভবনের নিচতলায় অবস্থিত দোকানের ব্যবসায়ীরা তাদের প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নেন। সফটলাইন ডিজিটাল স্টুডিও’র মালিক শহীদুল হক বাংলানিউজকে বলেন,‘১৯৯৭সালে দোকান ভাড়া নিয়েছি। ভবন ভাঙার বিষয়টি আমাদেরকে জানানো হয়নি। দোকানের মালামাল সরাতে আমাদের কোনো ধরণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

আরেক দোকান মালিক এস এম আলাউদ্দিন অভিযোগ করেন, ভবন মালিক গত ১০ বছর ধরে বিভিন্নভাবে ছলচাতুরী করে ভবনটি ভাঙার চেষ্টা করে আসছেন। তবে ভবন মালিক শেখ খুরশীদ আনোয়ার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভবন ভেঙে পড়লে দায়টা তখন আমাদের কাঁধে এসে পড়বে।’