Friday, 26 April 2013

হাটহাজারীতে হেফাজত-আহলে সুন্নাতদের মধ্যে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি শান্ত পুলিশসহ আহত ৪০

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব জালালুদ্দিনের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাটহাজারী উপজেলা সদরে আহলে সুন্নাত ও হেফাজত সমর্থকদের মধ্যে ইট পাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা থাকলেও রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

এর আগে এ ঘটনার জের ধরে উভয় পক্ষ সড়ক অবরোধ করে রাখে।  একটি মাজার সংলগ্ন দুটি দোকানে আগুন দেয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে। হামলার ঘটনায় ৫ জন পুলিশসহ ৪০ জন আহত হয়েছে। রাত এগারটার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ইশরাত জাহান পান্না। দু’পক্ষই সড়ক অবরোধ তুলে নিয়ে ফিরে যায় বলে জান‍া গেছে।

এদিকে এর আগে হাটহাজারী সদরের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে উল্লেখিত দু’পক্ষ সড়ক অবরোধ করায় চট্টগ্রামের সঙ্গে দুটি পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি এবং ৪টি উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে । আহত পাঁচ পুলিশ সদস্যরা হলো হলেন, এসআই মোশাররফ হোসেন, কনস্টেবল লিটন, শাহজাহান কবির, হানিফ ও রুপম। তারা স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে। এছাড়া বিপ্লব দে নামের এক স্থানীয় সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় হেফাজতের সমাবেশে আসা নেতা-কর্মীরা জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব  জালালুদ্দিন আল কাদেরীর উপর হামলা করে।ওই মসজিদে ৬ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকেন তিনি। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত সমর্থকরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে হাটহাজারীতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত সমর্থকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সমর্থকরা জড়ো হয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। এ অবস্থায় হেফাজত ও আহলে সুন্নাত‘র  উভয় সমর্থকরা মুখোমুখি হয়ে পড়ে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী ও হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান পান্নাসহ পুলিশের উধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। তারা উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যান। রাত ১১টার দিকে তাদের চেষ্টায় দুই পক্ষ সড়ক অবরোধ তুলে নেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬ থেকে রাত ১০টা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সড়কের উভয় দিকে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। সড়কে দুই পক্ষের লোকজনের অবস্থানের কারণে পুরো হাটহাজারীর বিভিন্ন এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন সংবাদ মাধ্যমকে  ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ প্রসঙ্গে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান পান্না জানিয়েছিলেন,দু’ পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এখনও পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়নি। বর্তমানে এলাকায়  ৠাব ,পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।