Friday, 19 April 2013

চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে নৌ-মন্ত্রী চট্টগ্রামে

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙরে অপেক্ষমান মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত লাইটারেজ জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে রেখেছে জাহাজ মালিকরা। জাহাজ মালিকদের এ অযৌক্তিক ধর্মঘটের কারণে খাদ্য পণ্যের মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। সিমেন্ট কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহনকারী নিজস্ব লাইটার জাহাজগুলো ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের পরিচালনায় আনার জন্যে একটি মহল নানা অপতৎপরতার মাধ্যমে এ জিম্মি অবস্থার সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডব্লিউটিসির অধীনে শিল্প মালিকদের নিজস্ব উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত লাইটারেজ জাহাজ আয়ত্তে নিতে না পারায় সিন্ডিকেটধারী লাইটার জাহাজ মালিকরা এ জিম্মি দশার সৃষ্টি করেছে। এতে বিশ্বে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পাশাপাশি বন্দরের ডেমারেজসহ বড় ধরণের লোকসানে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক ও প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক সংবাদ মাধ্যমকে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন,‘ জাহাজ মালিকদের দাবীগুলো অন্যায় ও অযৌক্তিক। এ দাবীগুলো দেখলে মনে হয় আমরা মগের মুল্লুকে বসবাস করছি।’ তিনি উদাহরণ দিয়ে যোগ করে বলেন, যেমন একজন হোটেল মালিক জনগনের কাছে আবদার তুললেন, আপনারা আজ থেকে নিজের বাড়ীতে থাকতে পারবেন না, বাধ্যতামূলকভাবে আমার হোটেলে থাকতে হবে। আমাদের অবস্থাও তাই দাঁড়িয়েছে। আমাদের কারখানার জন্যে লাইটেরেজ জাহাজ নিজেদের পণ্যের উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয়। পণ্যের উৎপাদন কার্যক্রম গতিশীল রাখার জন্যে বিপুল অংকের পুঁজি বিনিয়োগ করে শিল্প মালিকরা নিজস্ব লাইটারেজ জাহাজ নিয়োজিত রেখেছে। এ জাহাজ কারও ইচ্ছায় চলতে পারে না।’

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, পণ্য ভর্তি করা জাহাজ জিম্মি করে রাখায় পণ্যগুলো নষ্ট হচ্ছে, বন্দরের ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিশ্বে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ জিম্মি দশা চলতে পারে না, চলতে দেয়া যায় না।‘

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় নৌ মন্ত্রণালয়ে কয়েকদফা আলোচনা হলেও কোন ধরণের সুরাহা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাতেই চট্টগ্রাম এসে পৌঁছেছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান। এসেই তিনি রাত সাড়ে ৯টায় দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের রেস্ট হাউসে ‘চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গর থেকে আমদানিকৃত পণ্য লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে খালাস কার্যক্রম’ সংক্রান্ত বৈঠকে বসেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সমুদ্র অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন বলে সূত্র জানায়। আগামী কাল শনিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে এ বিষয়ে আরো একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বৈঠকে শিল্প মালিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন।