Tuesday, 2 April 2013

গভীর সাগরে জলদস্যুদের হামলা : ২১ জেলের লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী আলী আকবর ডেইল নামক এলাকার পশ্চিম-উত্তর বঙ্গোপসাগর থেকে জলদস্যুদের হত্যাকাণ্ডের শিকার আরও একজনের লাশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ১৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা। এ নিয়ে লাশের সংখ্যা দাড়ালো ২১ জনে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উদ্ধার অভিযানে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এসব জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষনিক পরিচয় জানা যায়নি।
কোষ্টগার্ডের চট্টগ্রাম এর জোনাল কমান্ডার মো. কায়সার বাংলানিউজকে বলেন, ‘সাগরে হাত- পা বাঁধা অবস্থায় সন্ধা পর্যন্ত ১৮ জন জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল এলাকার পশ্চিম উত্তর প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে গভীর সাগরে জাহাজ ফাঁড়ি চ্যানেল থেকে এসব লাশ উদ্ধার করা হয়।’ কোস্টগার্ড পূর্বজোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল ইউসুফ বলেন,‘উদ্ধার হওয়া ১৮ জেলের মৃতদেহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’ এর আগে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া চ্যানেলে গভীর সাগরে সোমবার দুপুরে তিন জেলের লাশ ভেসে উঠে। স্থানীয় জেলেরা জানান, জলদস্যূদের কবলে পড়ে আরও কমপক্ষে ১০ তেকে ১২ জন জেলে নিখোঁজ আছেন। সোমবার রাতে উদ্ধার হওয়া তিন জেলে হলেন, বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়নের মো.মতিন, মো.ইউনূস ও নেজাম উদ্দিন। পুলিশ ও বাঁশখালী-কুতুবদিয়ার স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া তিনটি নৌকার প্রায় ৩২ জন জেলে গত ২৬ মার্চ থেকে নিখোঁজ আছে। এদের মধ্যে ভেসে উঠা ১৬ জনের লাশ অন্যান্য জেলেরা সোমবার দুপুরে দেখতে পায়। এরপর দুপুরে শেখেরখীল থেকে কয়েকজন জেলে লাশগুলো উদ্ধারের জন্য সোমবার গভীর সাগরে যায়। রাতে তিনজনের লাশ লাশগুলো বাঁশখালী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর মঙ্গলবার কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৭ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। কোষ্টগার্ডের উদ্ধার করা এসব মৃতদেহ গভীর সমুদ্র থেকে কুতুবদিয়ায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন থানার পরিদর্শক আমিরুল ইসলাম। এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে নিহত এক জেলের ভাই সাহাবুদ্দিন বাদি হয়ে কুতুবদিয়া থানায় অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।