Sunday, 7 April 2013

হেফাজতের হরতাল : চট্টগ্রামে রেললাইন অবরোধ, নগরীতে হেফাজতের সঙ্গে আ.লীগের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

চট্টগ্রাম, ডেস্ক রিপোর্ট: লংমার্চে বাধা, কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা-নির্যাতন-গ্রেপ্তার এবং ১৩ দফা দাবি আদায়ে হেফাজতে ইসলামের ডাকে সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হচ্ছে।
হরতালে পিকেটিংয়ের সময় বন্দরনগরীর বিভিন্ন স্থানে হেফাজত কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে লালখান বাজার ও কদমতলী মোড়ে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
এদিকে সকালে নাজিরহাট এলাকায় চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইন অবরোধ করে রাখে হেফাজত কর্মীরা। রেললাইনে গাছের গুড়ি ফেলে এবং রেলের সামনে অবস্থান করে তারা এ অবরোধ করে। এসময় তারা হরতালের সমর্থনে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে।
অপর দিকে, হরতাল শুরুর পর হাটহাজারীতে দারুল উলুম মঈনুল মাদ্রাসার সামনের এলাকা, সদর বাসস্ট্যান্ডে এবং কাটিরহাট এলাকায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা সড়কের উপর অবস্থান নেন। তাদের অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। হরতালে নগরীর ওয়াসা মোড়, অলঙ্কার, নতুন ব্রিজ, ইপিজেড ও আন্দরকিল্লা মোড়ে অবস্থান নিয়েছে হেফাজত নেতা-কর্মীরা। তারা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে হরতালের সমর্থনে বিভিন্ন শ্লোগান দিচ্ছে। এছাড়াও দক্ষিণ চট্টগ্রামের শান্তির হাট, ফাজিলের হাটেও সড়কে অবস্থান নিয়েছে হেফাজত নেতাকর্মীরা। হরতালে কোন ধরনের সহিংসতা করবেনা বলে ঘোষণা দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতী হারুন ইজহার। তিনি  বলেন, ‘আমাদের হুজুরের (আহমদ শফী) নির্দেশনা অনুযায়ী হাতে তসবিহ ও মুখে জিকিরের মাধ্যমে আমরা হরতাল পালন করব।’ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) ফরিদ উদ্দিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘হেফাজতের নেতাকর্মীরা সড়কের উপর শান্তিপূর্ণভাবে বসে আছেন। যেহেতু তারা কোন ভায়োলেন্স করছেন না আমরাও তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে কোন বাধা দিচ্ছিনা।’ এদিকে হরতালে গণপরিবহনের পাশাপাশি হালকা যানবাহন চলাচলও কমে গেছে। কোন ধরনের দূরপাল্লার যানবাহন চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়নি। তবে রেল ও বিমান যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। হরতালে নাশকতা এড়াতে নগরীর বিভিন্ন স্পটে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।