Thursday, 18 April 2013

ভুজপুরে তাণ্ডব : বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় আওয়ামী লীগ

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানার কাজিরহাট এলাকায় সংঘটিত তান্ডবের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী। ফটিকছড়ির ইতিহাসে স্মরণকালের সবচেয়ে নৃশংস এ তান্ডবের ঘটনার সাতদিন পর উপজেলা আওয়ামী লীগ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।


সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ১১ এপ্রিলের নৃশংস ও নারকীয় তান্ডবের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থের যোগানদাতা ও উস্কানীদাতাদের চিহ্নিত করে দেশবাসীর সামনে তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। এ তদন্তের মাধ্যমে ওইদিনের বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেরিয়ে আসবে।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন,‘আওয়ামী লীগের হরতাল বিরোধী মিছিলে হামলার ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। এ নারকীয় তান্ডবের ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, জামায়াত-শিবির, সাকা চৌধুরীর সরাসরি মদদ আছে। সাকা চৌধুরী কারাবন্দী হলেও তার পরিবারের সদস্যরা এ তান্ডবের ঘটনায় অর্থের যোগান দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘তারা সারাদেশে যে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য করছে, ভুজপুরের হামলার ঘটনা তার একটি অংশ। স্বাধীনতা বিরোধী এ অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত, এক তরফা। এ বর্বরতা একাত্তরের বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। সাকা চৌধুরীসহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য তালেবানি কায়দায় এ নগ্ন হামলা চালানো হয়। এ হামলায় অর্থদাতা, পরিকল্পনাকারী ও মানব হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’ ওইদিনের হামলার ঘটনায় সংগঠনের তিন নেতাকর্মী নিহত এবং তিন শতাধিক নেতাকর্মী আহতের মধ্যে ১০ জন পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে জানান তিনি। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হামলাকারীরা প্রায় ২৩০টি মোটর সাইকেল, তিনটি কার, একটি নোহা মাইক্রো, ৩টি জিপ, আটটি ট্রাক ও পিক আপ পুড়িয়ে দিয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য  প্রায় ১০ কোটি টাকা। হামলাকারীরা ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি গাড়িও পুড়িয়ে দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ভুজপুর থানার কাজীরহাটে হরতাল বিরোধী মিছিল-সমাবেশ করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। মিছিল শেষে ফেরার পথে হেফাজত, জামায়াত-শিবির মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্রদের উত্তেজিত করে ওই মিছিলে হামলা চালায়। এতে তিনজন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হন। এসময় প্রায় শতাধিক মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয় তারা। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত নুরুল আলম চৌধুরী, গত সংসদ নির্বাচনে ফটিকছড়ি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।