Monday, 15 April 2013

জৌলুস হারিয়েছে খাতুনগঞ্জের হালখাতা উৎসব

চট্টগ্রাম: ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ। বর্ষবরণের নানা আয়োজন দেশ জুড়ে। রমণার বটমূল থেকে ডিসিহিল-সিআরবি। দেশের জেলা-উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে। তবে চট্টগ্রামের এতিহ্যবাহী পাইকারি ব্যবসা কেন্দ্র খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের হালখাতা  পালন করেন বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী। আর তাই এবার তারা পহেলা বৈশাখ পালন করেছেন ১৫ এপ্রিল । পুরনো রীতিতে নতুন বছরে নতুন খাতায় হিসাব খুলেন। যথাসম্ভব আদায় করে নেন পাওনা টাকা।


দোকানকে সাজিয়ে তোলেন বর্ণিল সাজে। পাওনাদার এলেও হাসি মুখে তুলে দেন মিষ্টি। এদিন তারা কোন বেচাকেনা করেন না, উৎসব আনন্দে মেতে উঠেন। এই হাজার বছরের রীতিই ছিল খাতুনগঞ্জে। কিন্তু বর্তমানে সে আনন্দ নেই। জৌলুস হারিয়েছে খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ীদের হালখাতা অনুষ্ঠানের। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, খাতুনগঞ্জে হালাখাতার সেই পুরনো ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারাতে বসলেও এবার রাজনৈতিক অস্থিরতায় আরও ম্লান হয়ে উঠেছে এ অনুষ্ঠান। তবে অতীত ঐহিত্য ধরে রাখার চেষ্টার করছেন বলে মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যবসায় যদি না থাকে তবে আনন্দ থাকবে কোত্থেকে। রাজনৈতিক অস্থিরতা আর বিশ্বমন্দায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। ফলে এবারের নতুন বছর শুরু করতে হয়েছে মনে কষ্ট নিয়েই।


যে কারণে জৌলুস হারাচ্ছে:

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা মনে করেন পহেলা বৈশাখের পরিবর্তে ইংরেজি সনের ডিসেম্বর মাসে হিসাব ‘ক্লোজিং’ করার কারণেই বাংলা সনের প্রথম দিনে ব্যবসায়ীদের যে উৎসাহ ছিল তা হারিয়ে যাচ্ছে। খাতুনগঞ্জের বাদশা মিয়া মার্কেটে একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের হিসাব ব্যবস্থাপক দীলিপ দাশগুপ্ত সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘খাতুনগঞ্জে হালখাতায় এখন আর সেই জৌলুস নেই। আগের সেই উৎসাহ উদ্দীপনাও নেই।‘

তিনি বলেন, ‘ব্যবসায় লোকসান, রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দাভাব। ফলে দিন দিন জৌলুস হারিয়ে যাচ্ছে। আগে পহেলা বৈশাখে জাঁকজমকপূর্ণভাবে হালখাতা উৎসব হলেও নতুন প্রজন্ম ইংরেজি সনের ডিসেম্বরে ‘ক্লোজিং’ করায় হালখাতায় আগ্রহ নেই। তবু পুরনো ঐহিত্য ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।’ সৈয়দ ছগীর বলেন, ‘খাতুনগঞ্জে ব্যবসা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ চেক প্রতারণা। প্রতারণার শিকার অনেক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেকে পুঁজি হারিয়েছেন।’

হরতালের প্রভাব হালাখাতায়:

হালখাতা উৎসবের বিষয়ে জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের একজন ব্যবসায়ী ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন,‘যেখানে ব্যবসা নেই সেখানে কিসের উৎসব। আগে ব্যবসা ছিল উৎসবও ছিল।‘ তিনি বলেন,‘ হরতালের কারণে ব্যবসা বাণিজ্য প্রায় বন্ধ। অনেক ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। অন্যান্য বারের তুলনায় এবার হাতে গোনা ব্যবসায়ী হালখাতা উৎসব পালন করেছেন।’ মেসার্স এসআর এন্টার প্রাইজের সত্ত্বাধিকারী সজীব সাহা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,‘বিশ্বমন্দার কারণে ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনছেন। আবার এরমধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতালের কারণে আগের তুলনায় ব্যবসা কমছে।’