Thursday, 14 March 2013

যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি, ধর্মের বিরুদ্ধে নয়: বাচ্চু

চট্টগ্রাম: সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেছেন, ‘শুধুমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। কোন ধর্মের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন নয়। আমরা বিশ্বাস করি যারা মুসলমান তারা তাদের ধর্ম পালন করবে, হিন্দুরা তাদের ধর্ম পালন করবে, যারা বৌদ্ধ ও খৃস্টান তারা তাদের ধর্ম পালন করবে।
আমরা মানুষের অধিকারে বিশ্বাস করি, সাম্যের নীতিতে বিশ্বাস করি।’বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে স্থাপিত গণজাগরণ মঞ্চে প্রতিবাদী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বাচ্চু বলেন, ‘হিন্দু-মুসলমান বিভাজনে আমরা বিশ্বাস করিনা, কারণ একাত্তরে এত বিভাজন ছিলনা। আর বিভাজন ছিলনা বলেই একাত্তরে আমরা জয়লাভ করেছিলাম। আমি বলতে চাই, আমাদের মধ্যে কোন নাস্তিক নেই। আমরা কেউ নাস্তিক নই। গণজাগরণ মঞ্চে মহানবীকে ছোট করে কোন বক্তব্য রাখা হয়নি, কখনও ইসলামকে অবমাননা করেও কোন বক্তব্য রাখা হয়নি। গত ৩৮ দিনে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা তাদের লক্ষ্য, আদর্শ থেকে এতটুকু বিচ্যুত হয়নি।’ সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভুতি নিয়ে জামায়াত-শিবির উসকানি দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। হেফাজতে ইসলামকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা জামায়াতের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হবেন না। আমরা নিজেদের মধ্যে কোন সংঘাত চাই না। ইমরান অত্যন্ত সৎ ধার্মিক মানুষ। তাকে নিয়ে আপনাদের ধারণা ভুল। এগুলো জামায়াতের মিথ্যা রটনা।’ নাট্য ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, ‘আপনারা যারা আমাদের মুরতাদ নাস্তিক বলেন, আপনারা তা বলার অধিকার রাখেন না। ধর্ম কাউকে মুরতাদ নাস্তিক বলার অধিকার দেয়নি।’ তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে গণজাগরণ মঞ্চে আমাদের মহাসমাবেশ করার কথা ছিল। কিন্তু জামায়াত প্ররোচিত অন্য একটি দল সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ায় সরকার ১৪৪ ধারা জারি করেছে। আমরা শান্তিতে ‍বিশ্বাস করি। আইনের প্রতি সম্মান রেখে আমরা মহাসমাবেশ স্থগিত করেছি। তার মানে এই না যে আমরা থমকে গেছি। চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা গোলাম আযমসহ রাজাকারদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’ তিনি চট্টগ্রামবাসীকে রাজাকারদের ফাঁসি ও জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানান। বিকেল ৫টায় উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর পরিবেশনায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিবাদী সমাবেশ। এর আগে বিকাল ৩টা থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের স্লোগান দিতে দিতে সমাবেশে আসতে থাকেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরাসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন গণজাগরণ মঞ্চ চট্টগ্রামের সমন্বয়ক ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগের আহ্বায়ক শরীফ চৌহান। শুরুতে প্রতিবাদী কবিতা আবৃত্তি করেন বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহ্কাম উল্লাহ।   শরীফ চৌহানের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম শুভ, ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সাইফুজ্জামান শাকন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক হাবিবুর রহমান তারেক, আবদুল্লাহ আল মামুন ও আশিকুন্নবী, ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আশীষ ভৌমিক, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুর রউফ, ছাত্র ফেডারেশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক আল জাহিদ, ছাত্র ইউনিয়নের আরিফুল ইসলাম, ছাত্র সংহতির সাধারণ সম্পাক রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।  গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্ল‍াবের সামনে গণজাগরণ মঞ্চে ককটেল হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে এ সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছিল।