Saturday, 23 March 2013

চট্টগ্রামে হরতাল ডেকেছে জামায়াত

চট্টগ্রাম : নগর কমিটির নায়েবে আমির শাহজাহান চৌধুরীর ভাগ্নের মৃত্যুতে সোমবার বৃহত্তর চট্টগ্রামে হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম কলেজ মাঠে (প্যারেড মাঠ) অনুষ্ঠিত জানাজা থেকে এ হরতালের ডাক দেন নগর জামায়াতের আমির ও সাতকানিয়ার সাংসদ আ ন ম শামসুল ইসলাম। গত ১৩ মার্চ রাতে বন্দরনগরীর রাহাত্তার পুল এলাকায় শাহজাহান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করতে তার ভাইয়ের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ।
এ সময় গ্রেপ্তার এড়াতে শাহজাহান চৌধুরীর ভাগ্নে ও ছাত্রশিবির কর্মী মাঈনুদ্দীন হাসান মুন্না ছয় তলা বিল্ডিং থেকে লাফ দেয়। আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে মুন্না মারা যায়। অবশ্য জামায়াতের দাবি, পুলিশ মুন্নাকে নির্যাতন করে ছয় তলা ভবন থেকে ফেলে দিয়ে ‘হত্যা’ করেছে। শনিবার দুপুর দুইটায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও লাশ আনতে দেরি করায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে। জানাজার আগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমীর জাফর ছাদেক, উত্তর জেলার আমির অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, নগর কমিটির সেক্রেটারি নজরুল ইসলামসহ ১৮ দলের নেতারা। জানাজায় চট্টগ্রাম নগর বিএনপি’র কোন নেতাকে দেখা যায়নি। সভাপতির বক্তব্যে আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান সরকার ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাই তারা ‘অবৈধ’ ট্রাইবুন্যালের মাধ্যমে আল্লামা সাঈদী ও মতিউর রহমান নিজামীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে।” তিনি অভিযোগ করেন, “শুধুমাত্র শাহজাহান চৌধুরীর ভাগ্নে ও ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হওয়াতে মুন্নাকে পুলিশ হত্যা করেছে।” মুন্নাকে ‘হত্যার প্রতিবাদে’ সোমবার ১৮ দলের ডাকে বৃহত্তর চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল হবে বলে সমাবেশে ঘোষণা দেন আ ন ম শামসুল ইসলাম। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর সাতকানিয়ায় জামায়াত-শিবিরের তা-বে ইন্ধন দেয়ার অভিযোগে মামলার আসামি করা হয় শাহজাহান চৌধুরীকে। তাকে গ্রেপ্তারের অভিযান চালাতে গিয়ে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে গুরুতর আহত হয় তার ভাগ্নে। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এদিকে শনিবার তার ভাগ্নের জানাজায় দুপুর দুইটা ১০ মিনিটে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে প্যারেড মাঠে আসেন জামায়াত ইসলামীর এ নেতা। এছাড়াও একাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পরও তিনি জামায়াত-শিবিরসহ ১৮ দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে অংশ নিচ্ছেন। সমাবেশ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “মুন্না আমার একমাত্র বোনের ছেলে তার মৃত্য হলেও এতে আমাদের কোন আক্ষেপ নেই। সাঈদীর জন্য আমাদের পরিবারের সকল সদস্য রক্ত দিতে প্রস্তুত।”