Friday, 1 March 2013

সাবধান করলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘যারা যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবিরকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন, তাদের সাবধান করা দেওয়া হচ্ছে। শত ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করা যাবে না। আমরা জীবিত আছি। আমাদের সন্তানেরা জেগে আছে।’ দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের তান্ডবের প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর নগরীর চেরাগী মোড়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে তিনি জামায়াত-শিবিরের ডাকা রোববার ও সোমবারের হরতাল প্রত্যাখান করে নেতাকমীদের রাজপথে থাকার নির্দেশ দেন।
সমাবেশ শুরুর আগে দু’টি দলে বিভক্ত হয়ে চেরাগী এলাকায় দুই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন তারা। নগর আওয়মীলীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি দল কদম মোবারক মসজিদ এবং অন্য দলটি আনিস মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করেন নেতা-কর্মীরা। নামাজ আদায়ের পর মিছিল নিয়ে চেরাগী পাহাড় মোড়ে জামায়াত-শিবিরের সহিংসতার প্রতিবাদে জমায়েত হন। নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম সুজনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা কাজী ইনামুল হক দানু, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, ওয়াকার্স পার্টির নেতা অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, জাসদসহ ১৪দলের নেতারা। সমাবেশে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন,  ‘যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আমাদের সন্তানেরা গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি করেছে। আমরা যে যুদ্ধ শুরু করেছি, আমাদের সন্তানেরা সে যুদ্ধ শেষ করবে।` তিনি জামায়াত-শিবিরের সহিংসতা বন্ধে ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে ও পাড়া-মহল্লায় কমিটি গঠন করার আহবান জানান। একই সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের ডাকা রোববার ও সোমবারের হরতাল প্রত্যাখান করার জন্য নেতাকর্মীদের আহবান জানান। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে তরুণার আজ ঐক্যবদ্ধ। বাংলার মানুষ এ দাবিতে আজ এক সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।’ শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, `প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা তিনি রক্ষা করেছেন।` উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর রায়ের মাধ্যমে জাতি আজ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। হত্যা-সহিংসতা সৃষ্টি করে জামায়াত-শিবির বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার বৃথা চেষ্টা চালাচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম আজ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গণজাগরণ সৃষ্টি করেছে।’ প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াতের শীর্ষ নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ফাঁসির আদেশ দেন আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার পরপরই দেশব্যাপী তাণ্ডব চালায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।