Wednesday, 13 March 2013

চট্টগ্রাম গণজাগরণ মঞ্চ এলাকায় ককটেল বিষ্ফোরণ

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশ নিয়ে হেফাজত ইসলাম ও গণজাগরণ মঞ্চের পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচি ঘোষণার পর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে পরপর ৩টি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে গণজাগরণ মঞ্চের সংবাদ সম্মেলনের ঠিক আগ মুহূর্তে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল আসতে থাকে জামাল খান গণজাগরণ মঞ্চ এলাকায়।
তারা জামাল খান এলাকায় মিছিল করে শ্লোগান দিচ্ছেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৮টার দিকে একটি লাল পাজেরো গাড়িতে করে এসে পর পর তিনটি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ককটেল বিষ্ফোরণের ফলে নগরীর প্রেসক্লাব চত্ত্বরে গণজাগরণ মঞ্চের ব্যানার পুড়ে যায়।ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ৭ মার্চ ঢাকায় গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশ থেকে আগামী ১৩ মার্চ সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল এবং বিকেলে নগরীর জামালখানে প্রেসক্লাব চত্বরে মহাসমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়। এ ঘোষণার পর গত ৯ মার্চ শনিবার রাতে হেফাজত ইসলাম নাস্তিক ব্লগারদের প্রতিহত করার নামে ১৩ মার্চ চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেয়। সোমবার হেফাজত ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে নগরীর জামালখানে গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশের স্থানে এবং স্টেশন রোড ও জেলা পরিষদ চত্বরে ১৩ মার্চ সমাবেশের ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি এ তিনটি স্থানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে তারা নগর পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করে। অন্যদিকে গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে হেফাজত ইসলামের হরতাল উপেক্ষা করে যে কোন মূল্যে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দেয়া হয়। একইসঙ্গে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠকরা ১৩ মার্চ বুধবার চট্টগ্রামবাসীকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান। সাংঘর্ষিক এ পরিস্থতিতে পুলিশ প্রশাসন দফায় দফায় দু’পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু এর মধ্যেও হেফাজত ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে সমাবেশ করে হরতালসহ তাদের কর্মসূচী পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী পালনের সিদ্ধান্তের কথা জানান। অন্যদিকে গণজাগরণ মঞ্চের চট্টগ্রামের সংগঠকরা তাদের মহাসমাবেশ কর্মসূচী যে কোন মূল্যে পালনের ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য প্রশাসনকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আলটিমেটাম দেন। এ পরিস্থিতিতে সন্ধ্যার পর নগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করে পুরো নগরীতে ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেন।