Wednesday, 6 March 2013

১০ আলেম হত্যা চেষ্টা : মওদুদীর বিরুদ্ধে বক্তব্য তাই হত্যার নীল নকশা

চট্টগ্রাম: জামায়াতে ইসলামির প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদির বক্তব্য সম্পর্কে মুসলিম সম্প্রদায়কে সতর্ক করার কারণে চট্টগ্রামের জামেয়ো আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসার ‍অধ্যক্ষ আল্লামা জালালুদ্দীন আল ক্বাদেরীসহ ওই মাদ্রাসার ৮জন এবং অপর দুইজনসহ চট্টগ্রামের শীর্ষ ১০ আলেমকে হত্যার নীল নকশা তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ জালালুদ্দীন আল কাদেরী। গত সোমবার দুপুরে নগরীর পাঁচলাইশ থানার বিবিরহাটে মাদ্রাসার পাশে শ্যামলী আবাসিক এলাকায় নগরীল ষোলশহর এলাকার জামিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসার মোহাদ্দিস ওবায়দুল হক নঈমীকে খুঁজতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয় শিবির ক্যাডার মাহমুদুল হাসান।
স্থানীয় জনতা মাহমুদুলকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এসময় তার কাছে থাকা ১০ শীর্ষ আলেমের নামসহ একটি তালিকা পাওয়া যায়। আটকের পর পুলিশকে মাহমুদুল জানায়, তালিকায় নাম থাকা ১০ আলেমকে খুনের পরিকল্পনা ছিল শিবিরের। এজন্য একটি কিলিং স্কোয়াডও গঠন করা হয়েছিল। শিবিরের খুনের টার্গেট হওয়া ১০ শীর্ষ আলেম হচ্ছেন, নগরীর ষোলশহরের জামিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব জালাল উদ্দিন আল কাদেরী, উপাধ্যক্ষ ছগির আহমেদ ওসমানী, একই মাদ্রাসার মোহাদ্দিস ওবায়দুল হক নঈমী, মোহাদ্দিস আশরাফুজ্জামান আল কাদেরী, মুফতি অছিউর রহমান, মুফতি আব্দুল ওয়াজেদ, শিক্ষক ইউনূস, শিক্ষার্থী তাওহীদ এবং পাহাড়তলীর নেছারিয়া আলীয়া সুন্নীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদিন জুবাইর ও সুন্নী আলেম আবুল কাশেম নূরী। এ ঘটনার প্রতিবাদে মাদ্রাসার পরিচালনা সংস্থা আঞ্জুমান-এ-রাহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। লিখিত বক্তব্যে জালালুদ্দীন আলে কাদেরী বলেন,‘জামেয়ার সঙ্গে যারা জড়িত তারা কোন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। জামেয়ার শিক্ষকরা সব সময় ইসলামের মূল আকিদা(বিশ্বাস) ও সঠিক রূপ রেখা সংরক্ষণে ভূমিকা রেখেছে।ফলে তথাকথিত ইসলামী দলের (জামায়াতে ইসলামী) প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর নবীকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য নিয়ে মুসলিম জনতাকে সতর্ক করে আসছেন এসব আলেমরা।‘ মওদুদী নবীকে নিয়ে যেসব অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন তা কুফরীর সমান অভিযোগ করে তিনি বলেন, জামেয়ার আলেমরা এসব বক্তব্য সম্পর্কে মুসলিম সমাজকে সতর্ক করার কারণে অনেক আগে থেকেই জামায়াত-শিবিরের চক্ষুশূল হন। সুন্নি আলেমদের নিমূল করতে এমন ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে নিন্দা জানান ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

একাত্তরের বুদ্ধিজীবি হত্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য:

চট্টগ্রামে শীর্ষ ১০ আলেমকে হত্যার পরিকল্পনাকে একাত্তরের বুদ্ধিজীবি হত্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন জালালুদ্দিন আল কাদেরী। তিনি বলেন, যেসব আলেমদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে তারা নবীর শানে যারা অবমাননাকর বক্তব্য দেয় তাদের তদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। এ আলেমরা সব সময় ইসলামের সঠিক রূপরেখা সমাজের সামনে তুলে ধরেন। জালালুদ্দীন বলেন, একাত্তরে যেভাবে তালিকা করে বুদ্ধিজীবি হত্যা করে বাংলাদেশকে নের্তৃত্ব শূণ্য করতে দেশের মেধাবী সন্তানদের হত্যা করা হয়েছিল ঠিক তেমনিভাবে ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যাদানকারী আলেমদেরও হত্যা করতে চায় জামায়াত-শিবির। এ হত্যা পরিকল্পনাকারীদের নেপথ্য নায়কদের সনাক্ত করে জাতির সামনে তাদের স্বরূপ উন্মোচন করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তিসহ ৭টি দাবি জানান তুলে ধরা হয়।

অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে দেশের জনগণ ও শীর্ষস্থানীয় সুন্নি আলেমদের নীরাপত্তা বিধান, দুষ্কৃতিকারীদের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা, ইসলাম ও নবী অবমাননাকারী, ধর্মীয় উস্কানীদাতাদের কঠিন শাস্তির বিধান করে সংসদে আইন পাশ করা, শীর্ষ আলেম হত্যার পরিকল্পনার জন্য সংসদে নিন্দা প্রকাশ, বিভিন্ন ব্লগে ও ফেইসবুকে নবী অবমাননাকারীদের সনাক্ত করে শাস্তি দান, যারা শীর্ষ আলেম হত্যার পরিকল্পনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে মন্তব্য করেছেন তার প্রতিবাদ এবং এ ধরণের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আঞ্জুমান ট্রাস্ট’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, যুগ্ম জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ সিরাজুল হক, জামেয়া পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম, জামেয়ার উপাধ্যক্ষ আল্লামা ছগীর ওসমানী, মুফতি ওবায়দুল হক নঈমি, মুফতি সৈয়দ অছিয়র রহমান, মুফতি কাজী মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াজেদ, আল্লামা আশরাফুজ্জামান আল কাদেরী, হাফেজ মোহাম্মদ সোয়ামান আনছারী, হাফেজ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান, মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুচ, গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ‘র চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, এমএম হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার প্রমুখ্ উপস্থিত ছিলেন।