Wednesday, 13 March 2013

চট্টগ্রামে ১৪৪ ধারা: স্বাভাবিক নগর জীবন

ছবি স্বত্ত্ব : বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম
চট্টগ্রাম: হেফাজতে ইসলাম ও গণজাগরণ মঞ্চের পাল্টা কর্মসূচির প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম নগরীতে ১৪৪ ধারা জারি করা হলেও এতে নগর জীবনে কোন ব্যাঘাত ঘটেনি। অফিস-আদালত, যানবাহন চলাচলেও কোন ধরণের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। তবে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ককটেল বিষ্ফোরণের পর বুধবার সকাল থেকে জামালখান সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে জামালখান সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের হাটা-চলাও কমে গেছে। সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে ১ হাজার ৬শ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পাশাপাশি মাঠে রয়েছেন ৬ প্লাটুন বিজিবি’র সদস্য। নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) বনজ কুমার মজুমদার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম ও গণজাগরণ মঞ্চের পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণার পর অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নগরীতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে ১৬শ’ পুলিশের পাশাপাশি ৬ প্লাটুন বিজিবি মাঠে রয়েছেন।’ গত ৭ মার্চ ঢাকায় গণজাগরণ মঞ্চের নারী সমাবেশ থেকে ১৩ মার্চ সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল এবং বিকেলে নগরীর জামালখান প্রেসক্লাব চত্বরে মহাসমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়। এ ঘোষণার পরদিন ৯ মার্চ (শনিবার) রাতে সংগঠকদের ‘নাস্তিক’ উল্লেখ করে সমাবেশ প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে এদিন চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় হেফাজতে ইসলাম। সোমবার হেফাজতে ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে নগরীর জামালখানে গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশের স্থানে ও স্টেশন রোডে এবং জেলা পরিষদ চত্বরে ১৩ মার্চ সমাবেশের হুমকি দেয়। পাশাপাশি এ তিনটি স্থানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে তারা নগর পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করে। অন্যদিকে গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে হেফাজতে ইসলামের হরতাল উপেক্ষা করে যে কোন মূল্যে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দেয়া হয়। একইসঙ্গে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠকরা ১৩ মার্চ বুধবার চট্টগ্রামবাসীকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান। সাংঘর্ষিক এ পরিস্থতিতে পুলিশ প্রশাসন দফায় দফায় দু’পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু এর মধ্যেও হেফাজত ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে সমাবেশ করে হরতালসহ তাদের কর্মসূচি পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী পালনের সিদ্ধান্তের কথা জানান। অন্যদিকে গণজাগরণ মঞ্চের চট্টগ্রামের সংগঠকরা তাদের মহাসমাবেশ কর্মসূচি যে কোন মূল্যে পালনের ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য প্রশাসনকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আলটিমেটাম দেন। এ পরিস্থিতিতে সন্ধ্যার পর নগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করে পুরো নগরীতে ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেন। এরপর রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে গণজাগরণ মঞ্চ এলাকায় পরপর তিনটি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে রাত সাড় ৮টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বুধবার চট্টগ্রামে গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশ স্থগিতের ঘোষণা দেন সংগঠকরা। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে হেফাজতে ইসলামও তাদের হরতাল প্রত্যাহার করে নেয়।