Tuesday, 19 March 2013

হরতালে বিচ্ছিন্ন সংঘাত, ভাংচুর, আটক ২০

চট্টগ্রাম: পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, বিচ্ছিন্ন গাড়ি ভাংচুর, আটকের মধ্য দিয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ১৮ দলের ডাকা ৩৬ ঘণ্টা হরতালের দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হচ্ছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় চন্দ্রঘোনা এলাকায় পিকেটারদের হামলায় পুলিশ সদস্যসহ দু’জন আহত হয়েছেন। সীতাকুন্ডে ত্রিমুখী সংঘর্ষের পর হরতাল সমর্থকরা রেললাইন অবরোধ করেছে। নগরীর বাকলিয়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ পিকেটারকে আটক করেছে।
তবে বিচ্ছিন্ন সংঘাত থাকলেও নগরীর পরিস্থিতি সোমবারের তুলনায় অনেকটাই স্বাভাবিক আছে। তুলনামূলকভাবে সোমবারের চেয়ে যানবাহন চলছে, দোকানপাটও খুলেছে। মঙ্গলবার ভোর থেকে নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা.শাহাদাৎ হোসেনের নেতৃত্বে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলছে মিছিল-সমাবেশ। বিএনপি নেতারা ছাড়া জামায়াতসহ ১৮ দলের অন্য কোন নেতাকে হরতালের সমর্থনে মাঠে নামতে দেখা যাচ্ছেনা। হরতাল চলাকালে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর স্টেশন রোড এলাকায় আমির খসরু ও গোলাম আকবর খোন্দকারের নেতৃত্বে মিছিল বের হয়। মিছিলটি ওই এলাকা ত্যাগের পর সেখানে ব্যাপকভাবে গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পিকেটাররা এসময় তিনটি অটোরিক্সা এবং একটি টেক্সিক্যাব ভাংচুর করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। অন্যদিকে নগরীর এ কে খান মোড়ে সকালে গাড়ি ভাংচুরের চেষ্টা করায় তিন পিকেটারকে আটক করেছে পুলিশ। পাহাড়তলী থানার ওসি আব্দুর রউফ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিইপিজেডের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাসে ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। তবে বন্দর থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে উত্তেজিত কয়েকজন যাত্রী বাসটি ভাংচুর করেছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হরতালের সমর্থনে ঝটিকা মিছিল ও ভাংচুরের চেষ্টার পর নগরীর সিরাজউদ্দৌলা রোড থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) উৎপল বড়ুয়া বাংলানিউজকে বলেন, ‘আটক ১০ জনের মধ্যে সবাই পিকেটার কিনা সেটা যাচাইবাছাই করা হচ্ছে।’ এছাড়া হরতাল চলাকালে নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় পটকা বিস্ফোরণের মাধ্যমে আতংক সৃষ্টির চেষ্টার খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাক আহমেদ। দুপুর আড়াইটার দিকে বিএনপির দলীয় কার্যালয় নগরীর কাজির দেউরী এলাকার নাসিমন ভবনে সামনে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় হরতালকারীরা। এতে এক রিকশাওয়ালা আহত হয়েছেন। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) মো.শহীদুল্লাহসংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, বেলা ১২টার দিকে নগরীর বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের সামনে হরতাল সমর্থকরা দু’টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এর আগে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার সামনে পিকেটাররা কয়েকটি গাড়িতে ঢিল ছুঁড়ে ভাংচুরের চেষ্টা করে। নগরীর বাকলিয়া থানার ওসি একেএম ইকবাল হোসেন বাংলানিউজকে জানান, সকাল পৌনে ১১টার দিকে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু এলাকায় হরতালের সমর্থনে বিএনপি এবং হরতালবিরোধী আওয়ামী লীগের সমাবেশ থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় দু’গ্রুপে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ড উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকায় পুলিশ, পিকেটার ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় পিকেটারদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) ফরিদ উদ্দিন। সীতাকুন্ড রেলস্টেশনের মাস্টার মতিলাল বড়ুয়া সংবাদ মাধ্যমকে জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হরতাল সমর্থকরা মহাসড়ক ছেড়ে যাবার পর ফৌজদারহাট রেলওয়ে স্টেশনের কাছে  টায়ার জ্বালিয়ে রেললাইন অবরোধ করে রাখে। এসময় তারা ফৌজদারহাট স্টেশনেও ভাংচুর চালায়। এতে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকাগামী চট্টলা এবং সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস আটকা পড়ে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে একঘণ্টা পর ট্রেন দুটি নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে বলে তিনি জানান। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা এলাকায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পিকেটাররা পুলিশ সদস্যদের বহনকারী একটি টেম্পু ভাংচুর করে। এসময় রাঙ্গুনিয়া থানার এএসআই জয়ব্রত চাকমা ও টেম্পু চালক সুমন আহত হয়েছেন বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন ওসি এম এম মোর্শেদ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ সাত পিকেটারকে আটক করেছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।