Sunday, 3 March 2013

নিরূত্তাপ হরতালে উত্তাপ ছড়াল বাঁশখালী-আনোয়ারা

চট্টগ্রাম: বন্দরনগরী চট্টগ্রামে রোববার জামায়াত ইসলামীর ডাকা হরতাল নিরূত্তাপভাবে চলছে। নগরীর বাইরে সাতকানিয়া-লোহাগাড়‍া, আনোয়ারা ও বাঁশখালীতে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া আর কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে হরতালকে কেন্দ্র করে নগরী এবং জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন আছে।
হরতাল শুরুর আগে জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার বিভিন্ন স্থানে সড়কে এলোপাতাড়িভাবে গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখে পিকেটাররা। আনোয়ারায় হরতাল বিরোধী মিছিলে জামায়াত-শিবিরের হামলায় কমপক্ষে আহত হয়েছেন।  বাঁশখালীতে হরতাল চলাকালে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশ, ৠাব ও বিজিবির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হরতালে পিকেটিংয়ের প্রস্তুতি নেয়ার সময় ১৩ জনকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় এবং পরবর্তী পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকজন হতাহতের পর জামায়াত এ হরতালের ডাক দিয়েছে। সাতকানিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মো.সিরাজুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, হরতাল শুরুর আগেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে উপজেলার কেরাণীহাটসহ কয়েক কিলোমিটার এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। তবে হরতালের সমর্থনে তারা কোন মিছিল-সমাবেশ করেনি। গত কয়েকদিনের সহিংস ঘটনার পর এখনও পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে তিনি জানান। লোহাগাড়া থানার ওসি মো.শাহজাহান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, উপজেলার আধুনগর, ঠাকুরদিঘীসহ বিভিন্ন এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়েছিল। পুলিশ এসব গুঁড়ি অপসারণ করেছে। বাঁশখালী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে বাঁশখালীর বৈলছড়ি এলাকায় হামিদিয়া ম‍াদ্রাসার সামনে থেকে পিকেটিংয়ের চেষ্টাকালে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে বাঁশখালীর পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে। সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট খুলেছে। জীবনযাত্রাও অনেকটাই স্বাভাবিক আছে এরপর দুপুর দু’টার উপজেলার শেখের খীল এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করার পর জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানান বাঁশখালী থানার ওসি আব্দুস সবুর। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারার জুঁইদন্ডী ইউনিয়নের লামাবাজার এলাকায় বেলা ২টার দিকে হরতাল বিরোধী আওয়ামী লীগের মিছিলে জামায়াত-শিবিরের দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে। এসময় পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। হামলায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) মো.ইলতুৎমিশ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘সাতকানিয়া-লোহাগাড়া এবং বাঁশখালী ছাড়া বাকি এলাকাগুলোর পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক।‘ এদিকে হরতালে সহিংসতা মোকাবেলায় নগরীতে ব্যাপকভাবে পুলিশ-বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাক আহমেদ। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, নগরীর অর্ধশতাধিক পয়েণ্টে কমপক্ষে দেড় হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন আছে। এছাড়া বিজিবি মোতায়েন আছে ১১ প্লাটুন। নগরীর দেওয়ান হাট মোড়, পোস্তার পাড়, স্টেশন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিল করলেও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে হরতাল চলাকালে নগরীতে যানবাহন চলাচলের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম দেখা যাচ্ছে। তবে রিক্সা চলাচল স্বাভাবিক দেখা গেছে। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু গণপরিবহন চলতে দেখা গেছে।দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও সকালে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে সব ট্রেন ছেড়ে গেছে। বিমান চলাচলও স্বাভাবিক আছে। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের ভেতরে জেটিতে ও বর্হিনোঙ্গরে জাহাজ থেকে পণ্য উঠানামা একেবারে স্বাভাবিক আছে। তবে পণ্যবোঝাই কোন পরিবহন বন্দরের বাইরে যেতে পারেনি। নগরীতে হরতাল শুরুর পর দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো খুলে দেয়া হচ্ছে। নগরীতে সরকারী-বেসরকারী অফিস, কলকারকানা, সিইপিজেডের কারখানাগুলো খোলা ছিল। তবে উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল বলে জানা গেছে। এছাড়া হরতালের কারণে নগরীতে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।