Sunday, 24 March 2013

আতংক তৈরির পরও ঢিলেঢালা হরতাল, আটক ১

চট্টগ্রাম: ঝটিকা মিছিল করে গাড়ি ভাংচুর ও আগুন দেয়ার চেষ্টা, ককটেল বিস্ফোরণসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সোমবার চট্টগ্রামে চলছে জামায়াতের ডাকা হরতাল। বিচ্ছিন্নভাবে আতংক তৈরির চেষ্টা থাকলেও আতংক উপেক্ষা করে নগরীত চলাচল করছে প্রচুর যানবাহন।
একইসঙ্গে কলকারখানা, সরকারী-বেসরকারী অফিসও খুলেছে। মানুষের জীবনযাত্রাও অনেকটাই স্বাভাবিক আছে। আর জেলার মধ্যে জামায়াত অধ্যুষিত সাতকানিয়া-লোহাগাড়‍া ছাড়া আর কোথাও মাঠে নামেনি হরতাল সমর্থকরা। হরতাল চলাকালে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর বায়েজিদ এলাকায় ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় পিকেটাররা। এসময় টহল পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ফয়সাল নামে শিবিরের এক সাথীকে আটক করে। সকাল ৮টার দিকে নগরীর মুরাদপুরে রেললাইনের পাশে একটি টেম্পুতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় পিকেটাররা। পাঁচলাইশ এলাকায় সকাল জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করে দু’টি ‍অটোরিক্সা ভাংচুর করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো.শহীদুল্লাহ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ককটেল বিস্ফোরণের পর শিবিরের একজন সাথীকে আটক করা হয়েছে। মুরাদপুরে টেম্পুতে আগুন দেয়ার চেষ্টা করেছিল। এর বাইরে এ পর্যন্ত আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’ হরতাল শুরুর পর নগরীর মুরাদপুর, চকবাজার, এনায়েত বাজার মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নগরীর জামালখানে গণজাগরণ মঞ্চের অদূরে, ডিসি হিলের সামনে, দেওয়ান বাজার এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাক আহমেদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘নগরীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। প্রকাশ্যে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কেউ ঘটাতে চাইলে কঠোরভাবে দমন করা হবে।’ নগরীর নিউমার্কেট, লাভ লেইন, বহদ্দারহাট, রাহাত্তার পুল, চকবাজার, মুরাদপুর, ষোলশহর দু’নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা মোড়, সিইপিজেড মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকেই রাস্তায় প্রচুর পরিমাণে বাস, টেম্পু, হিউম্যান হলার, অটোরিক্সাসহ গণপরিবহন চলাচল করছে। রিক্সা চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক আছে। তুলনামূলকভাবে কম হলেও ব্যক্তিগত যানবাহনও রাস্তায় বেরিয়েছে। এমনকি জামায়াত নিয়ন্ত্রিত এলাকা হিসেবে পরিচিত চকবাজারেও বাস, টেম্পু চলাচল করতে দেখা গেছে। আর সিইপিজেড মোড়ে হরতালের কোন আমেজই দেখা যায়নি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। হরতাল চলাকালে নগরীর সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপর বিচ্ছিন্নভাবে গাছের গুঁড়ি ও খালি ড্রাম ফেলে অবরোধ সৃষ্টির চেষ্টা করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। তবে পুলিশ গিয়ে সেগুলো সরিয়ে দেয়। তুলনামূলক কম হলেও মহাসড়ক দিয়ে দূরপাল্লার যানবাহনও চলাচল করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) মো.ইলতুৎমিশ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক আছে। পিকেটারদের মাঠে নামার কোন খবর পাইনি।’ এদিকে সীতাকুন্ডে সকালে পিকেটাররা কয়েকটি যানবাহনে ইট, পাটকেল নিক্ষেপ করে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়ক ছেড়ে গেছেন পিকেটরার। এর বাইরে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, হাটহাজারীতে হরতাল সমর্থকদের কোন কর্মকান্ড নেই। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) ফরিদ উদ্দিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘সীতাকুন্ডে দু’একটি গাড়ি ভাংচুরের চেষ্টা হয়েছে। অন্য উপজেলায় হরতাল পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক।’ পুলিশের ভয়ে ছয়তলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীর ভাগ্নে ও জামায়াত কর্মী মো. মঈনুদ্দিন হাসান মুন্নার মৃত্যুর প্রতিবাদে জামায়াত বৃহত্তর চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে। বিএনপিসহ ১৮ দল এ হরতালে সমর্থন দিয়েছে।