Monday, 4 March 2013

বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে চলছে বিএনপির হরতাল

চট্টগ্রাম: ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, গাড়ীতে আগুন দেয়া, টেম্পু ভাংচুর সহ বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বড় ধরণের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই চট্টগ্রামে বিএনপির ডাকা হরতাল চলছে। জেলার কোথাও কোন বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। হরতালকে কেন্দ্র করে নগরীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অন্যদিকে হরতাল সফল করতে নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিএনপি নেতারাও মাঠে রয়েছেন।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘নগরীতে প্রায় এক হাজার ৬’শ পুলিশ মোতায়েন আছে। ৠাবের প্রায় সাড়ে তিন’শ সদস্য মোতায়েন আছে। কেউ অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইলে কঠোরভাবে দমন করা হবে।’ এদিকে নগর নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনের রাস্তা, কাজির দেউড়ি, বহদ্দারহাট, বাকলিয়া, কালামিয়াবাজার, তৃতীয় কর্ণফুরী সেতুর উত্তর পাশসহ বেশ কয়েকটি স্পটে জমায়েত হয়ে মিছিল-সমাবেশ করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। হরতাল শুরুর পর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর বাকলিয়া থানার বিএনপির সভাপতি ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা.শাহাদাত হোসেনের নের্তৃত্বে চকবাজার থেকে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করা হয়। সকাল ৮টার দিকে নগর মহিলা দলের সভাপতি ও কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মণি’র নেতৃত্বে লালখান বাজার এলাকায়, সাড়ে ৮টার দিকে নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ ছৌধুরীর নেতৃত্বে নাসিমন ভবনের সামনে থেকে, সকাল ১০টার দিকে নগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ানের নতৃত্বে বহদ্দারহাট এলাকায় চান্দগাঁও থানা বিএনপি মিছিল বের করে। সাড়ে ১০ দিকে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি সাংসদ জাফরুল ইসলামের নেতৃত্বে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর উত্তর পাশে এবং সকাল সোয়া ১১টার দিকে নাসিমন ভবনের সামনে থেকে উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসলাম চৌধরীর নেতৃত্বে  মিছিল বের করা হয়েছে। এছাড়া সকাল ৬টার দিকে বাকলিয়া থানা ছাত্রদল সভাপতি গাজী সিরাজের নের্তত্বে চকবাজার থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিল চলাকালে বিভিন্ন স্থানে হরতাল সমর্থকরা যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ ধাওয়া দিলে তরতাল সমর্থকরা পালিয়ে যায়। নগরীর চান্দগাঁও থানার সিএন্ডবি এলাকায় একটি মিছিল থেকে চলন্ত গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে একজনকে আটক করে। চকবাজার থেকে ছাত্রদলের মিছিলটি রাহাত্তারপুল এলাকায় এলে গাড়ি ভাংচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র বণিক বাংলানিউজকে বলেন, ‘হরতাল সমর্থকদের মিছিল থেকে চলন্ত গাড়িতে ঢিল ছুড়ে মারলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। এসময় পিকেটাররা পালিয়ে যাওয়ার সময় একজনকে আটক করা হয়।’ এদিকে সকাল ১১টার দিকে মনোয়ারা বেগম মনির নেতৃত্বে ওয়াসা মোড় মিছিল বের করা হলে সেখানে ছাত্রলীগের একটি মিছিল শুরু করে। এত ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া নগরীর কোথাও অপ্রীতিকর কোন ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সকাল থেকেই কাজীর দেউড়ির মোড়, দেওয়ান হাট মোড়, বন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীরা জমায়েত হয়ে সড়কে অবস্থান নিয়েছে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন স্পটে গিয়ে হরতারের সমর্থনে সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন। এছাড়া নগরীর বাকলিয়ায় তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর সামনে অবস্থান নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাংসদ জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীরা। নগরীর বাকলিয়া রাহাত্তারপুল এলাকায় নগর বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ডা.শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছে।  নগরীর বন্দর থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, হরতাল শুরুর পর ভোরে সিইপিজেডের ভেতর পার্কিং করে রাখা একটি কাভার্ড ভ্যানের চাকায় আগুন ধরিয়ে দেয় পিকেটাররা। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ এবং বেপজা’র লোকজন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। নগরীর তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর উপর পিকেটাররা একটি টেম্পু ভাংচুর করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এদিকে জামায়াতের ডাকা হরতালের শেষ মুহুর্তে ভোরে সীতাকুন্ডের কুমিরা ও ভাটিয়ারির মাঝামাঝিতে রেললাইন কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। তবে খবর পেয়ে রেলওয়ের প্রকৌশলীদের একটি দল গিয়ে রেললাইন মেরামত করেন। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ওই লাইন দিয়ে ফের ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে বলে জানান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মিজানুর রহমান। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু গণপরিবহন চললেও তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় একেবারে কম। তবে রিক্সা চলাচল স্বাভাবিক আছে। দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে। ট্রেন ও বিমান চলাচল স্বাভাবিক আছে। নগরীর মূল সড়কে দোকানপাটগুলো বন্ধ থাকলেও অলিগলিতে থাকা দোকানপাটগুলো খুলছে। সরকারী-বেসরকারী অফিস, শিল্প কারখানা, সিইপিজেডের অধিকাংশ কারখানা খোলা আছে। আর যানবাহনের অভাবে যথারীতি গন্তব্যে পৌঁছাতে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।