চট্টগ্রাম: বিকেল ৩টা ৫৯মিনিট ৪৫ সেকেন্ড। জামালখানের চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্ত্বর। উপস্থিত হাজার হাজার জনতা। প্রতীক্ষা বিকেল চারটার জন্য। সে প্রতীক্ষিত ক্ষণ গণনা শুরু করেন সাবেক ছাত্রনেতা রিপায়ন বড়ুয়া। ১৫,১৪,১৩,১২,.....৩,২,১.। প্রতিদিন গর্জে উঠতে থাকা পুরো জামালখান জুড়ে নেমে এসে নীরবতা। এ নীরবতা ত্রিশ লাখ শহীদদেরকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে, এ নীরবতা চার লাখ মা-বোনের ইজ্জত হরণের প্রতিবাদে, এ নীরবতা দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে একাত্তরের ঘাতকদের বিচার না হওয়ার প্রতিবাদে, এ নীরবতা স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে। আর এতসব অন্যায়-অনাচারের সৃষ্টিকারী একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে তিন মিনিটের নীরবতা পালন করেছে পুরো বাংলাদেশ।
শাহবাগের প্রজন্ম চত্ত্বরের এ আহবানে সাড়া দিয়েছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের লাখো মানুষ। শুধু চট্টগ্রামের প্রেসক্লাব চত্ত্বর নয়, এ নীরবতা নেমে আসে পুরো চট্টগ্রাম জুড়ে। তিন মিনিটের জন্য স্তব্দ হয়ে গিয়েছিল বন্দরনগরী। থমকে গিয়েছিল ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল প্রতিষ্ঠান। স্ব-স্ব অবস্থান থেকে দাঁড়িয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে সংহতি জানান লাখো মানুষ। এসময় রাস্তায় থমকে যায় যান চলাচল। অফিস থেকে বেরিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কোটি জনতার সাথে সংহতি প্রকাশ করে কর্মকর্তা-কর্মাচারীরা। পিছিয়ে ছিলেন না ব্যবসায়ীরাও। দেশের বৃহত্তম পাইকারী বাজার খাতুনগঞ্জ-চাক্তাইয়ের ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমে এসে তিন মিনিটের জন্য নীরবতা পালন করেন। একাত্তরের ঘাতকদের ফাঁসির দাবিতে ‘তিন মিনিটের’নীরবতা পালন করেন রিকশাচালক, মুঠে-মজুরসহ নানা শ্রেণীর-নানা পেশার মানুষ। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাঁবিতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্ত্বরের স্থাপিত গণজাগরণ মঞ্চে মঙ্গলবার বিকেল হতেই হাজার হাজার জনতা অবস্থান নেন। টানা সাতদিন ধরে চলা এ অবস্থান কর্মসূচিতে মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করে যায়। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্ত্বরের গণজাগরণ মঞ্চে ‘তিন মিনিটের নীরবতা’-এ কর্মসূচি পরিচালনা করেন সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগের আহবায়ক শরীফ চৌহান। তিন মিনিট নীরবতা শেষে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানে গর্জে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চ। এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীমের কন্যা ও ঘাতক দালাল নিমূর্ল কমিটির নেত্রী ডা. নুজহাত চৌধুরী শম্পা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, আওয়ামী লীগ, কমিউনিস্ট পার্টি, ওয়াকার্স পার্টি, উদীচী, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র মৈত্রী, ছাত্রলীগ, খেলাঘর, ব্লাগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম, পরিবেশ ছাত্র ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন।