চট্টগ্রাম: নগরীর রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে আগামী বৃহস্পাতিবার থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (সিআইটিএফ)। চট্টগ্রামে ২১ বারের মতো এ মেলার আয়োজন করেছে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের। বিভিন্ন আকারের ৪ শতাধিক প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে। মেলা আয়োজনের যাবতীয় প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছে আয়োজকরা।
মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত চলবে। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম চেম্বার মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মেলা কমিটির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ জামাল আহম্মেদ। এসময় তিনি মেলা আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম চেম্বার প্রতিবারের মতো এবারো পলোগ্রাউন্ড মাঠে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োনের জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি শেষ করেছে। আগামী বৃহস্পতিবার বিকেলে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।‘ তিনি বলেন, দেশীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত করতে গত ২০ বছর ধরে চট্টগ্রাম চেম্বার মেলার আয়োজন করে আসছে। এ মেলা দেশিয় শিল্প প্রসারে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। দেশিয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাইরের কয়েকটি দেশ এ মেয়ায় অংশ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন,‘এতে করে আমাদের দেশের পন্যের সঙ্গে বিদেশি পণ্যের গুণগত পার্থক্য বিচার করতে পারছেন ক্রেতারা।‘ তিনি জানান, এবারের মেলায় ১২টি প্রিমিয়ার গোল্ড প্যাভিলিয়ন, ২টি মিনি মগা প্যাভিলিয়ন, ৮টি প্রিমিয়ার এবং ১৬টি স্ট্যান্ডার্ড প্যাভিলিয়ন, ৫০টি মেগা, ১২৭টি প্রিমিয়ার মেগা, ১০টি প্রিমিয়ার গোল্ড, ৩৮টি প্রিমিয়ার, ১৪টি স্ট্যান্ডার্ড ও তিনটি রেস্টুরেস্টসহ ৩৮টি প্যাভিলিয়ন ও ২৩৯টি স্টল মেলায় অংশ নিচ্ছে। তিনি জানান, দশমবারের মতো থাইল্যান্ড মেলার কান্ট্রি পার্টনার হিসেবে ৪ হাজার ৫০০ বর্গফুটের জায়গা নিয়ে মেলায় অংশ নিচ্ছে। এছাড়া নিজস্ব পণ্য নিয়ে ভারত, চীন, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইরান এ মেলায় অংশ নিচ্ছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য র্যাব পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প, সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মেলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানান তিনি। মেলার কো-চেয়ারম্যান বলেন, মেলা চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনারগণ, সরকারি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা মেলা পরিদর্শনে আসবেন। মেলা প্রাঙ্গণে ওয়াই-ফাই অনলাইন সুবিধা, তথ্য কেন্দ্র এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে রেড-ক্রিসেন্ট, সন্ধানী এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি করে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া শিল্প-সাহিত্যে-সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে দিতে রাখা হয়েছে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের জন্য একটি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে নিরাপদ আর্থিক লেনদেনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে এনসিসি ব্যাংকের একটি অস্থায়ী শাখা। মেলার টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ১০টাকা। মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী বুথ ও প্যাভিলিয়নকে বিশেষ পদক ও অংশগ্রহনণকারী সব প্রতিষ্ঠানকে সনদ দেয়া হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।জামাল আহম্মেদ জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এমএ লতিফ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।