Monday, 11 February 2013

চকরিয়ায় ব্রীজের রেলিং ভেঙ্গে বাস নদীতে নিহত ১৮ , আহত ২৬

কক্সবাজার ( ১১ ফেব্রুয়ারী) : কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভয়াবহ সড়ক দূর্ঘটনায় ব্রীজের রেলিং ভেঙ্গে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলে ১৭জন নারী পুরুষ নিহত। আহত ২৬জনকে গুরুতর অবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ১১ ফেব্রুয়ারী ভোর ৫টায় চকরিয়া পৌরসভার চিরিংগা মাতামুহুরী ব্রীজ থেকে পড়ে এ দূর্ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শনিবার রাত আটটায় গাজীপুর পৌরসভায় ৫নং ওয়ার্ড়ের হরিনালা ও নোয়াগাও মহল্লার ভাড়া বাসা থেকে ৪৬জন যাত্রী নিরাপদ সুপার সার্ভিস (মায়ের দোয়া) নামের একটি চেয়ারকোচে (নং টাঙ্গাইল জ-১১-০০৮০) করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি হযরত মাইনুদ্দিন আল হাসানীর ৭৬তম খোশরোজ শরীফে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
১০ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠানের প্রধান দিবস শেষ করে রাত ২টায় তাদের ৪৪জন যাত্রী একই গাড়িতে করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাসটি সোমবার ভোর ৫টায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া পৌরসভার চিরিংগা মাতামুহুরী নদীর ব্রীজ অতিক্রম করার সময় চালক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেললে বাসটি রেলিং-এ ধাক্কা লেগে নিচে পড়ে যায়। ব্রীজের ৫০ ফুট নিচে বালির চড়ে পড়ে বাসটি ধুমডে চুমড়ে যায়। এতে  ১১জন পুরুষ, ৬জন মহিলা ও শিশুসহ ১৮জন ঘটনাস্থলে মারা যায়। খবর পেয়ে চকরিয়া দমকল বাহিনী, পুলিশ ও এলাকাবাসী নিহতদের লাশ ও আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জমজম হাসপাতালে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত ২৬জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিল্পী (৩৫) নামের এক মহিলা কাকতালীয়ভাবে অক্ষত রয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরিতদের বেশির ভাগই অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, তিনি গাজীপুর জেলা প্রশাসক নুরুল ইসলামের সাথে কথা বলে ১৭জনের লাশ গাজীপুর পৌরসভায় পৌঁছে দিয়েছেন। দূর্ঘটনার সাথে সাথে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন, পুলিশ সুপার আজাদ মিয়া ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা ও চিকিৎসায় সহযোগিতা করেন। ওই বাসের অপর দুই যাত্রী মো: শামীম ও আল আামিন অন্য গাড়িতে করে আগেই কক্সবাজার চলে যাওয়ায় তারা দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান। শামীম জানান, ফটিকছড়িতে আসা এসব আশেকানদের বেশিরভাগই স্বল্প আয়ের লোক। নিহতের মধ্যে তোয়াজ উদ্দিনের পুত্র আবছার উদ্দিন (৪৬), মোহর আলীর পুত্র আবদুর রশিদ (৪০), হাসেমের পুত্র ইকবাল (৪০), আবদুল আজিজের পুত্র রাজিব (৩০), লাল মিয়ার দুই স্ত্রী জয়নাব বেগম (৪৮) ও মুফিজা বেগম (৩৮), সাতাই ফলানের পুত্র মোহাম্মদ (৬৫), তহীদুল (৩৮), অহিজ উদ্দিন (৮০), আবদুল জলিল (৫০), শিউলীর (১৪) নাম পাওয়া গেছে।