Sunday, 3 February 2013

পোশাকের পর সম্ভাবনা জাহাজ নির্মাণে: ইইউ রাষ্ট্রদূত

চট্টগ্রাম:  নিউজডেস্ক :  পোশাক শিল্পের পর জাহাজ নির্মাণ শিল্পকেই দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাত বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হান্না। রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদন্ডীতে জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এফএমসি ডকইয়ার্ড লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শনের পর মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে ইইউ রাষ্ট্রদূত এ মন্তব্য করেছেন।  রাষ্ট্রদূত বলেন, `তৈরি পোশাক শিল্পের কারণে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের একটি পরিচিতি গড়ে উঠেছে। জাহাজ নির্মাণ শিল্পও বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে অনুরূপভাবে পরিচিত করবে। এছাড়া বাংলাদেশের জন্য জাহাজ নির্মাণ শিল্প অনেক সম্ভাবনাময় খাত।
এ শিল্প বিকশিত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে, কর্মসংস্থানের প্রচুর সুযোগ সৃষ্টি হবে।` তিনি বলেন, `সারা বিশ্বে দক্ষ জনশক্তির প্রচুর চাহিদা আছে। বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির পরও বাংলাদেশে অনেক কর্মক্ষম তরুণরা আছেন। জাহান নির্মাণ শিল্পসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে এসব তরুণদের নিয়োগের মাধ্যমে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করলে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে।` তিনি বলেন, `বাংলাদেশের সামনে প্রচুর সম্ভাবনা আছে। দিন দিন বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। এটি অত্যন্ত খুশির বিষয় যে বাংলাদেশ শুধু জাহাজ ভাঙ্গায় নয়, জাহাজ নির্মাণেও সফলতা দেখাচ্ছে।` রাষ্ট্রদূত এফএমসি ডকইয়ার্ডের প্রশংসা করে বলেন, `এফএমসিসহ বাংলাদেশের ডকইয়ার্ডগুলো ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। আমি আশা করি, এফএমসি`র সঙ্গে ইইউ`র বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।` উল্লেখ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্যাদেশে এফএমসি ডকইয়ার্ডে বাংলাদেশের সুন্দরবনের জন্য নির্মিত হচ্ছে ২৫টি গ্যাংওয়েসহ পন্টুন। বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, `সুন্দরবনে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে, তাদের যাতায়াত সহজতর করতে সর্বোপরি সুন্দরবনকে রক্ষা করতে এসব পন্টুনের প্রয়োজন আছে। এফএমসি পন্টুন নির্মাণের কাজ খুব সুন্দরভাবে সঙ্গেই করছে।` বিভিন্ন ডকইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ না থাকা, পরিবেশ দূষণ, নদী দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, `ঢাকায় ট্যানারি আছে যেগুলো একসময় স্বাস্থ্যের উপর ঝুঁকি সৃষ্টি করত। কিন্তু মালিকরা সচেতন হওয়ায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এ ঝুঁকি এখন কমছে। আশা করি, ডকইয়ার্ডগুলোও পরিবেশের বিষয়ে সচেতন থাকবে। আমরাও এসব বিষয়ে যথেষ্ঠ সচেতন আছি।` অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, `দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বৃহত্তর ভারতের জন্য চট্টগ্রাম একটি চমৎকার সংযোগস্থল হতে পারে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামে ব্যবসাবাণিজ্যের প্রসার ঘটানো সম্ভব।`

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস, এফএমসি ডকইয়ার্ডের চেয়ারম্যান মির্জা আইয়ূব বেগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.ইয়াছিন চৌধুরী এবং ইইউ`র ট্রেড অ্যাডভাইজার জিলুল হেইরোজি বক্তব্য রাখেন।   ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.ইয়াছিন চৌধুরী জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে বিকশিত করার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে সুদের হার কমানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, `জাহাজ নির্মাণ শিল্প নতুন হওয়ায় এ শিল্প সম্পর্কে উচ্চ পর্যায়ে জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা আছে। তবে একটু সুযোগ আর পৃষ্ঠপোষকতা পেলে জাহাজ নির্মাণ শিল্প অচিরেই ব্যাপক প্রসার লাভ করবে।` এর আগে বিকেল ৩টার দিকে নদীপথে এফএমসি ডকইয়ার্ডে পৌঁছান ইইউ রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হান্না। সেখানে পৌঁছেই তিনি পুরো ডকইয়ার্ড ঘুরে ঘুরে দেখেন। পরে মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।