চট্টগ্রাম: জামায়াতের শীর্ষ নেতা কামারুজ্জামানের মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার আগের দিন নগরীর কোতয়ালী থানার চন্দনপুরা এলাকায় দারুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসায় বুধবার সন্ধ্যায় ঘণ্টাব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এসময় পুলিশ মাদ্রাসা থেকে গজারি কাঠের লাঠি, লোহার রড, পেট্রল, জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিসম্বলিত পোস্টার, প্রচারপত্রসহ শিবির কর্মী সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে। এছাড়া মাদ্রাসার ভেতর থেকে কয়েকটি বাক্সে রাখা বিপুল পরিমাণ হেফাজতে ইসলামের লিফলেটও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মাদ্রাসাটি নগরীতে জামায়াত-শিবিরের অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। জামায়াত-শিবিরের ঘাঁটি
থেকে হেফাজতে ইসলামের লিফলেট উদ্ধারের পর সংগঠনগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘লিফলেটগুলো বাক্সবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে, হেফাজতে ইসলাম সেগুলো বিলির জন্য মাদ্রাসায় পাঠিয়েছে। জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের মাধ্যমে সেগুলো বিলির পরিকল্পনা হয়ত হেফাজতের ছিল।’
এর আগে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে বন্দি বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাসভবন গুডস হিল থেকে আনুমানিক এক’শ গজ দূরে দারুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসায় অভিযান শুরু করে প্রায় দু’শতাধিক পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাক আহমেদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতয়ালী জোন) মির্জা আবু সায়েম মাহমুদ, কোতয়ালী থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম এবং ওসি (তদন্ত) সদীপ কুমার দাশ। এসময় পুলিশ তিনতলা মাদ্রাসা ভবনের তৃতীয় তলায় প্রায় অর্ধশত আবাসিক কক্ষের তালা ভেঙ্গে সেখানে তল্লাশি চালায়। পুলিশ বেশ কয়েকটি কক্ষে চৌকির নিচে তল্লাশি চালিয়ে ক্রিকেটের স্ট্যাম্প আকৃতির গজারি কাঠের বেশকিছু লাঠি ও দু’হাত-তিন হাত আকৃতির লোহার রড উদ্ধার করেন। একটি কক্ষে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বেতের আলমিরার ভেতর থেকে প্লাস্টিকের বোতলে ছয় বোতল পেট্রলও উদ্ধার করা হয়। একই জায়গা থেকে উদ্ধার হয় পোস্টার, লিফলেট এবং হেফাজতে ইসলামের প্রচারপত্রও।
অভিযানে আটক হওয়া চারজন হলেন, মাদ্রাসার কামিল প্রথম বর্ষের ছাত্র জয়নুল আবেদিন, আলিম প্রথম বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র শাহাদাৎ হোসেন ও আইয়ূব আলী এবং দশম শ্রেণীর ছাত্র আরিফ। দেখা গেছে, অভিযানের সময় খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলেন শাহাদাৎ হোসেন। পুলিশ সেখান থেকে তাকে আটক করে। শাহাদাৎ জানায়, তার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার দুলাহাজরা গ্রামে। শাহাদাতের কক্ষের পাশের কক্ষ থেকেই উদ্ধার করা হয় লাঠি ও লোহার রডগুলো। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শাহাদাৎ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘নবম শ্রেণীর ছাত্ররা ক্রিকেট খেলার জন্য স্ট্যাম্পগুলো রেখেছে। লোহার রডগুলোও তারাই রেখেছে।’
অভিযানের শুরুতেই পুলিশ দেখে তৃতীয় তলায় ৩২ নম্বর কক্ষে আত্মগোপনের চেষ্টা করে জয়নুল আবেদিন। পুলিশ তাকে আটক করে। জয়নুল জানান, মাদ্রাসায় প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন’শ শিক্ষার্থী মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে থাকেন। আটক হওয়া আইয়ূব আলী জানান, তার বাড়ি খাগড়াছড়িতে। সে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে জানায়। আইয়ূব বলেন, ‘শিবিরে যোগ দেয়ার জন্য আমাদের উপর কোন চাপ নেই। তবে যাদের ইচ্ছা তারা যোগ দিতে পারেন। মাঝে মাঝে বড় ভাইয়েরা এসে আমাদের শিবিরে যোগ দেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। আমাদের শিক্ষকরাও মাঝে মাঝে উৎসাহ দেন। তবে প্রিন্সিপাল সাহেব রাজনীতিতে না জড়ানোর কথা বলেন।’
অভিযানে উদ্ধার হওয়া হেফাজতে ইসলামের প্রচারপত্রগুলোতে মূলত তাদের বিরুদ্ধে নারী সংগঠনগুলোর বক্তব্যের জবাব আছে। এ প্রচারপত্রে হেফাজতে ইসলামের ওয়েব সাইটের ঠিকানা লেখা থাকলেও কার্যালয়ের কোন ঠিকানা উল্লেখ নেই। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাক আহমেদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে কিছু নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে ট্রেনে আগুন দেয়া হয়েছে। আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল-এ মাদ্রাসায় বসে নাশকতার পরিকল্পনা হয় এবং প্রস্তুতিও নেয়া হয়। অভিযানে আমরা নাশকতা ঘটানোর বেশকিছু আলামতও পেয়েছি।’ তবে অভিযানের সময় দেখা গেছে, মাদ্রাসার হাতেগোণা দু’একটি কক্ষ ছাড়া অধিকাংশ কক্ষ ছিল তালাবদ্ধ। মাদ্রাসায় উপস্থিতির সংখ্যাও ছিল হাতেগোণা কয়েকজন। নিচতলার একটি কক্ষে বসে মো.সোহায়েল নামে রসায়ন বিভাগের একজন প্রদর্শক ছাত্রদের ব্যবহারিক ক্লাশ নিচ্ছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘পুলিশের অভিযানের পরিকল্পনা করার সময়ই অভিযানের তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। এবারও হয়ত ফাঁস হয়ে গেছে আর সবাই আগেভাগে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।’
অভিযানে আটক হওয়া চারজন হলেন, মাদ্রাসার কামিল প্রথম বর্ষের ছাত্র জয়নুল আবেদিন, আলিম প্রথম বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র শাহাদাৎ হোসেন ও আইয়ূব আলী এবং দশম শ্রেণীর ছাত্র আরিফ। দেখা গেছে, অভিযানের সময় খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলেন শাহাদাৎ হোসেন। পুলিশ সেখান থেকে তাকে আটক করে। শাহাদাৎ জানায়, তার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার দুলাহাজরা গ্রামে। শাহাদাতের কক্ষের পাশের কক্ষ থেকেই উদ্ধার করা হয় লাঠি ও লোহার রডগুলো। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শাহাদাৎ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘নবম শ্রেণীর ছাত্ররা ক্রিকেট খেলার জন্য স্ট্যাম্পগুলো রেখেছে। লোহার রডগুলোও তারাই রেখেছে।’
অভিযানের শুরুতেই পুলিশ দেখে তৃতীয় তলায় ৩২ নম্বর কক্ষে আত্মগোপনের চেষ্টা করে জয়নুল আবেদিন। পুলিশ তাকে আটক করে। জয়নুল জানান, মাদ্রাসায় প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন’শ শিক্ষার্থী মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে থাকেন। আটক হওয়া আইয়ূব আলী জানান, তার বাড়ি খাগড়াছড়িতে। সে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে জানায়। আইয়ূব বলেন, ‘শিবিরে যোগ দেয়ার জন্য আমাদের উপর কোন চাপ নেই। তবে যাদের ইচ্ছা তারা যোগ দিতে পারেন। মাঝে মাঝে বড় ভাইয়েরা এসে আমাদের শিবিরে যোগ দেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। আমাদের শিক্ষকরাও মাঝে মাঝে উৎসাহ দেন। তবে প্রিন্সিপাল সাহেব রাজনীতিতে না জড়ানোর কথা বলেন।’
অভিযানে উদ্ধার হওয়া হেফাজতে ইসলামের প্রচারপত্রগুলোতে মূলত তাদের বিরুদ্ধে নারী সংগঠনগুলোর বক্তব্যের জবাব আছে। এ প্রচারপত্রে হেফাজতে ইসলামের ওয়েব সাইটের ঠিকানা লেখা থাকলেও কার্যালয়ের কোন ঠিকানা উল্লেখ নেই। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাক আহমেদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে কিছু নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে ট্রেনে আগুন দেয়া হয়েছে। আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল-এ মাদ্রাসায় বসে নাশকতার পরিকল্পনা হয় এবং প্রস্তুতিও নেয়া হয়। অভিযানে আমরা নাশকতা ঘটানোর বেশকিছু আলামতও পেয়েছি।’ তবে অভিযানের সময় দেখা গেছে, মাদ্রাসার হাতেগোণা দু’একটি কক্ষ ছাড়া অধিকাংশ কক্ষ ছিল তালাবদ্ধ। মাদ্রাসায় উপস্থিতির সংখ্যাও ছিল হাতেগোণা কয়েকজন। নিচতলার একটি কক্ষে বসে মো.সোহায়েল নামে রসায়ন বিভাগের একজন প্রদর্শক ছাত্রদের ব্যবহারিক ক্লাশ নিচ্ছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘পুলিশের অভিযানের পরিকল্পনা করার সময়ই অভিযানের তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। এবারও হয়ত ফাঁস হয়ে গেছে আর সবাই আগেভাগে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।’

