চট্টগ্রাম: সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজার চারটি পোশাক কারখানার জন্য বন্ড সুবিধায় আনা ৩০টি আমদানি চালানের খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ (বিন লক) করে দিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ফলে ফেব্রিক্স কাপড়ের এসব চালান চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কারখানার মালিক বা অন্য কেউ খালাস নিতে পারবে না। তবে চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার (এসি) আবুল আ’লা মোহাম্মদ আমীমুল এহসান খান সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারখানা স্থানান্তর করে উৎপাদন কার্যক্রম চালু করা হলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চালান খালাসের অনুমতি পাবে। অন্যথায় এসব চালান নিলামে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য বন্দরে আসা আমদানি চালান ৩০ দিনের মধ্যে খালাসের বিধান আছে। অন্যথায় বন্দর কর্তৃপক্ষ তা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারে। কাস্টমসে জরিমানা দিয়ে সেগুলো ১৫ দিনের মধ্যে খালাস করা যায়। অন্যথায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেসব আমদানি পণ্য নিলামে বিক্রি করতে পারে। রানা প্লাজার চারটি পোশাক কারখানা হলো-নিউ ওয়েব স্টাইল, নিউ ওয়েব বটমস, প্যান্টম এপারেলস ও প্যান্টম টেক। তাদের আমদানি করা চালানগুলো ভবন ধসে সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনার পর বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন জাহাজে করে এসেছে।সহকারী কমিশনার আমীমুল এহসান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর ওই ভবনে থাকা পোশাক কারখানাগুলোর বন্ড সুবিধায় আনা কোন চালান বন্দরে আছে কিনা তা শনাক্ত করার কাজ শুরু করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি তারা চারটি কারখানার নামে আমদানি করা ৩০টি চালান শনাক্ত করেছে। তিনি বলেন, ‘যেহেতু ওই ভবনে থাকা পোশাক কারখানাও ধ্বংস হয়ে গেছে সেহেতু তাদের কোন কারখানা নেই। ফলে বন্ড সুবিধায় আনা এসব ফেব্রিক্ম চালান যাতে কেউ খালাস নিতে না পারে সেজন্য খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ (বিন লক) করে দেয়া হয়েছে।’ তবে ঘটনার পর থেকে চারটি কারখানার নামে আসা ৩০টি চালান কেউ খালাস নিতে আসেনি বলেও জানান তিনি।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, চারটি পোশাক কারখানার জন্য যেসব ফেব্রিক্স’র কাপড় আনা হয়েছে তা এখন ব্যবহার করার কোন সুযোগ নেই। তাই বণ্ড সুবিধায় আনা এসব ফেব্রিক্স কাস্টমসের নিলাম শাখায় পাঠানো হবে। উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নয় তলা রানা প্লাজা ধসে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনী, ফায়ার ব্রিগেড, রেড ক্রিসেন্টসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। উদ্ধার কার্যক্রম শুরুর চারদিন পর গত ২৮ এপ্রিল থেকে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরুর ঘোষণা দেন অভিযানের নেতৃত্বে থাকা সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের অধিনায়ক মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সোহরাওয়ার্দী। এছাড়া আহত ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ২ হাজার ৪৩৯ জন শ্রমিককে। দুর্ঘটনার ১৭তম দিনে গত শুক্রবার জীবিত অবস্থায় ধ্বংস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় রেশমা নামে আটকে পড়া এক নারী শ্রমিককে। তিনি বর্তমানে সাভার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ধ্বংসস্তুপ থেকে রোববার পর্যন্ত মরদেহ উদ্ধারের মোট সংখ্যা ১ হাজার ১২৬ জনে। এর মধ্যে ৮২৪ জনের মরদেহ শনাক্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া সাভার অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হস্তান্তরের অপেক্ষায় আছে ১৬টি লাশ। ৫২টি লাশ রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। এখন পর্যন্ত বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে ২৩৪টি লাশ।
