Thursday, 2 May 2013

জুলাই থেকে বাতিল হচ্ছে পিএসআই প্রথা

চট্টগ্রাম: শুল্কায়ন পদ্ধতি ও আমদানি পণ্য মূল্যায়নে বহুল আলোচিত প্রি-শিপম্যান্ট ইন্সপেকশান (পিএসআই) প্রথা আগামী ১ জুলাই থেকে বাতিল হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো.গোলাম হোসেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি মিলনায়তনে আয়োজিত প্রাক বাজেট মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগের সচিব ও রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন।


এসময় তিনি জানান, ১ জুলাই থেকেই বিশেষায়িত সফটওয়্যার এস আই কোডা ওর্য়াল্ড চালু হবে। এ প্রথা চালু হলে অনলাইনে আমাদানি পণ্যের মূল্যায়ন করতে পারবেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। ফলে আমদানি পণ্যের উপর ১ শতাংশ হারে যে চার্জ দিতে হতো তা আর দিতে হবে না আমদানিকারকদের। উল্লেখ্য শুল্কায়ন পদ্ধতি ও আমদানি পণ্য মূল্যায়নে ১৯৯৯ সাল থেকে বাংলাদেশে পিএসআই প্রথা চলে আসছে। এতে মোট আমদানি পণ্যের ১ শতাংশ হারে চার্জ দিতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। ব্যবসায়ীরা এ প্রথা বাতিল করে আধুনিক প্রথা চালু করার দাবি জানিয়ে আসছেন। এনবিআর দীর্ঘদিন ধরে এসআই কোডা ওয়াল্ড চালু করার আশ্বাস দিলেও তা কার্যকর করতে পারেনি।

চট্টগ্রাম চেম্বার আয়োজিত প্রাক বাজেট মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মো.গোলাম হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। স্বাগত বক্তব্যে মাহবুবুল আলম পিএসআই প্রথার নানা ধরণের জটিলাতা ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের হয়রানির অভিযোগ তোলেন। এসময় তিনি এ প্রথা বাতিলের দাবি জানান। মাহবুবুল আলম বলেন, ‘পণ্য খালাস প্রক্রিয়া সহজ, আমদানিকারকদের অযথা হয়রানি বন্ধ এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে পিএসআই প্রথা চালু করা হলেও তা হয়নি। এখন এ পদ্ধতিতে পণ্য খালাস করতে বরং উল্টো জটিলতা সৃষ্টির পাশাপাশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।‘ তিনি জানান, ‘অনেক সময় আমদানিক পণ্য বন্দরে পৌঁছলেও সিআরএফ রিপোর্ট আসে না। সেক্ষেত্রে পণ্য খালাসে দেরি হয়। এতে আমদানিকারকদের বিড়ম্বনা ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।’ পিএসআই কোম্পানীগুলোর মনোপলি মনোভাব, জনবল সংকট, সিআরএফ রিপোর্টে তথ্যগত ভুলের কারণে ব্যবসায়ীরা নানা হয়রানির শিকার হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়া মূলধনী যন্ত্রপাতি, মৌলিক কাঁচামাল, মধ্যবর্তী কাঁচামাল, প্রস্তুত পণ্যে শুল্ক কমানোর দাবি জানান চেম্বার সভাপতি। মূলধনী যন্ত্রপাতি ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ, মৌলিক কাঁচামাল পাঁচ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ, মধ্যবর্তী কাঁচামাল ১২ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৫শতাংশ হারে শুল্কায়ন করার প্রস্তাব দেন তিনি। ফুলক্রিম মিল্ক পাউডার, স্কুল-কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের ব্যবহৃত কাগজ জাতীয় দ্রব্যের উপর আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি। বারবিডা’র সেক্রেটারি মাহবুবুল হক বাবর ডাম্প ট্রাক, গণপরিবহন সুযোগ রেখে আগামী বাজেট প্রণয়নের সুপারিশ করেন।

ব্যবসায়ীদের এসব দাবির প্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন,‘আগামী বাজেট প্রণয়নে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবনা ও সুপারিশমালা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।’ তিনি আসন্ন বাজেটে ট্যারিফ কাঠানো যৌক্তিককরণ, মধ্যবর্তী কাঁচামালের তুলনায় মৌলিক কাঁচামালের আমদানি শুল্ক হ্রাসসহ সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে দেশিয় শিল্পের স্বার্থরক্ষা ও সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন। মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, এমএ মোতালেব, আনোয়ার শওকত আফসার, মো.সিরাজুল ইসলাম, সাবেক পরিচালক নুর মোহাম্মদ, ব্যবসায়ীদের মধ্যে মুজিব নগর সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা, একে চৌধুরী, বিজিএমইএ প্রথম সহসভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, বিকেএমইএ’র শওকত ওসমান, রি-রোলিং মিলস এসোসিয়েশনের আনামুল হক ইকবাল বক্তব্য রাখেন। মতবিনিময় সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মো.ফরিদ উদ্দিন, সৈয়দ মোহাম্মদ আমিনুল করিম, নাছির উদ্দিন, ফিরোজ শাহ আলম, চট্টগ্রাম চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো.নুরুন্নেওয়াজ সেলিম, সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের উধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।