চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের উপর ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত অন্যত্র সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান। তিনি তাদেরকে নিরাপদ স্থান ও স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান করার পরামর্শ দেন। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর লালখান বাজার এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ মতিঝর্ণা পাহাড় পরিদর্শনকালে তিনি এ নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান এসময় আশপাশের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম আবদুল কাদের ও রাব্বী মিয়া (এলএ)। এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শনিবার বিকেল থেকে মাইকিং করা হয়েছে। লোকজনকে নিরাপদ অবস্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
পাহাড় পরিদর্শন কালে জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ‘চট্টগ্রামের এসব পাহাড়ে বসবাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। টানা কয়েকদিন বৃষ্টি হলে এখানে বসবাস করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। এমনকী প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এসব পাহাড়ে বসবাসকারীদের অতি দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের পুনর্বাসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নেয়ার কথা জানান তিনি।
এদিকে পাহাড়ের নিচে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদেরকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। শনিবার বিকেলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার আহবান জানিয়ে মাইকিং করা হয়। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোশতাক আহমদ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, শনিবার নগরীতে প্রচন্ড বৃষ্টি হয়েছে। তাই পাহাড় ধসে প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।
ডিসি বললেন ঝুঁকিপূর্ণ, কাউন্সিলরের না
চট্টগ্রাম পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে মোট ১৩টি পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় হচ্ছে লালখান বাজারের মতিঝর্ণা পাহাড়। পাহাড়ের পাদদেশে ও পাহাড় চূড়ায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদেরকে এখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। তিনি সাংবাদিকদের বলেন,‘এখানে বসবাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোন মুহূর্তে পাহাড় ধসে এখানে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।তাই তাদেরকে দ্রুত সরে যেতে বলা হয়েছে।।’ প্রাণ রক্ষার্থে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ প্রশাসন মাইকিং করে যাচ্ছে শনিবার বিকেল থেকে।
কিন্তু খোদ সিটি কর্পোরেশনের এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিঝর্ণা পাহাড়ের বিষয়ে বলছেন ভিন্ন কথা। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর বলছেন, এ পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ নয়। ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ এফ কবির আহমেদ মানিক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,‘‘আমার এখানে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় নেই। আপনারা মিডিয়ার লোকজন ‘ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়’ এর গল্প লিখেন। এখানে সব ঠিক আছে”। জেলা প্রশাসক স্বয়ং মতিঝর্ণা পাহাড়কে ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যায়িত করে ওই পাহাড় পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বলেন,‘ডিসি বললে হবে নাকি? এসব লোক দেখানো নাটক। তিনি একবছর ধরে কই ছিলেন? এখানে মানুষ মরলে আর বাঁচলে সব আমাকেই দেখতে হবে।’
মৃত্যুকূপে বসবাস
কেউবা দিনমজুর, কেউবা রিকশাচালক, আবার অনেকে খেটে খাওয়া মানুষের দল। তাদের মধ্যে রয়েছে পেশার ভিন্নতা। কিন্তু জীবন যুদ্ধের একটা ক্ষেত্রে তারা সবাই এক সূত্রে গাঁথা। এ জীবনে তাদের কারো স্থায়ী বসত নেই। এক কথায় ওরা সহায় সম্বলহীন। এদের কারো ঘর চলে গেছে রাক্ষুসী নদীর গহ্বরে, আবার কেউ হারিয়েছে প্রভাবশালী জোতদারের লোভের কাছে। স্থায়ী বসত হারিয়ে তারা পেয়েছে ‘ভাসমান’ জীবন। ভাসতে ভাসতে তারা কেউ উঠেছে মতিঝর্ণা পাহাড়ে, কেউ বা ঠাঁই নিয়েছে বাটালী হিলে। চট্টগ্রামের এরকম ১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসতহারা এসব মানুষের বসবাস। স্বপ্ল ভাড়ায় তারা পেয়েছে মাথা গোঁজার একটি ঠাঁই। শুধু কি ঠাঁই! এরসঙ্গে পেয়েছেন আজীবন বয়ে বেড়ানোর এক যন্ত্রণা। নিত্যসঙ্গী এ যন্ত্রণার নাম ‘পাহাড় ধস’। আতঁকে উঠে ‘মূল্যহীন’ এ জীবন হারানোর আশঙ্কায়। গত সাত বছরে পাহাড় ধসে চট্টগ্রামে মারা গেছেন অন্তত ১৮০জন। ২০০৭ সালের ১১ জুন স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ পাহাড় ধসে মারা যান ১২৭ জন। এ ছাড়া গত বছর জুন মাসে নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় চাপায় মারা যান ২৪ জন। এছাড়া ২০১১ সালে নগরীর বাটালি হিলে পাহাড় ধসে ১১ জনের মৃত্যু হয়। অন্যান্য সময়ে মারা গেছেন বাকিরা। পাহাড়ে বসতকারী মানুষদের জীবন শুষ্ক মৌসুমে একরকম কেটে যায়। যন্ত্রণার অস্থিরতা বাড়ে বর্ষা মৌসুমে। প্রকৃতিতে আবারও এসেছে এ মুহূর্তটি। আবারও শুরু হয়েছে তোড়জোর। এবার সরে যেতে হবে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে। কিন্তু যাবেন কোথায়? মতিঝর্ণা পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বিধবা হোসনে আরার কণ্ঠেও একই প্রশ্ন। সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,‘স্বামী হারিয়েছে অনেক আগে। গ্রামের বাড়িতে কোনো বসত-বাড়ি নেই। এ দুনিয়ায় থাকারও কোনো জায়গা নেই। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে আছি আজ ২০ বছর ধরে।’ একমাত্র কন্যাকে নিয়ে কাঁচা ঘরে তার জীবনযাপন। মতিঝর্ণা পাহাড়ের বাচ্চু ফকিরের বাড়িতে স্বামী-সন্তান নিয়ে থাকেন আমেনা। রোববার সকালে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের এখানে পাহাড় ধসে না। পাহাড় ধসে ওদিকের পাহাড়ের(পার্শ্ববর্তী পাহাড় নির্দেশ করে)। এখানে কোনো ঝুঁকি নেই।’ এ বাড়িতে রয়েছে অন্তত ১২ টি পরিবার। পাহাড়ের বুক চিরে এসব ঘর তৈরি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ সত্বেও এখানে এক-একটি পাহাড়ের পাদদেশে ও পাহাড়ের উপরে ছয়-সাতটি করে পরিবার বসবাস করছে। এখানে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তাই তাদেরকে এসব পাহাড় থেকে সরে যেতে হবে’।
তিনি জানান, বসবাসকারী আপাতত পাহাড় থেকে সরে নিচে নিরাপদ স্থানে ও পার্শ্ববর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকতে পারবেন। সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার কথা জানান তিনি। পাহাড়ের পাদদেশ ও পাহাড় চূড়ায় গড়ে উঠা এসব বসত বাড়ির প্রায় প্রত্যেকটিতে রয়েছে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও পানির লাইন। রোববার দুপুরে পরিদর্শনকালে এসব দেখে রীতিমত অবাক চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান। পরিদর্শনের এক পর্যায়ে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘এখানে তো বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ দেয়ার কথা না। কারা এসব অনুমতি দিয়েছে তা খুঁজে বের করা হবে।’ জানা গেছে, স্বল্প আয়ে এসব বেড়ার খুপড়ি ও সেমিপাকা ঘরে ভাড়া থাকেন তারা। আর এসব ভাড়া তুলেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। আবার তাদের নেপথ্যে আছেন রাজনৈতিক নেতারা। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ এফ কবির আহমেদ মানিকের বিরুদ্ধেও। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে রোববার জেলা প্রশাসক পরিদর্শন গেলে এসব ভাড়াটিয়ারা মালিক বনে যান।
এরকম একজন শামসুন্নাহার। কুমিল্লার মুরাদনগরের এ বাসিন্দা মতিঝর্ণার ‘হোসেন সাহেবের’ পাহাড়ে স্বামী ও ছয় সন্তান নিয়ে থাকেন। জানতে চাইলে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,‘২০বছর আগে এ জায়গা কিনে নিয়েছে।’ কার কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন জানতে চাইলে তার নাম জানাতে পারেননি তিনি। এ পাহাড়ের পাদদেশে চারটি পরিবার বসবাস করে। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন,‘এসব বাড়ির মালিকদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বসবাসকারীরা নিজেদের মালিক দাবি করছেন। তবে যারা এখানে বসবাস করছেন তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস করছে অন্তত এক হাজার পরিবার। এর মধ্যে অন্তত ৩শ’ পরিবার অধিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
তিনি জানান, বসবাসকারী আপাতত পাহাড় থেকে সরে নিচে নিরাপদ স্থানে ও পার্শ্ববর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকতে পারবেন। সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার কথা জানান তিনি। পাহাড়ের পাদদেশ ও পাহাড় চূড়ায় গড়ে উঠা এসব বসত বাড়ির প্রায় প্রত্যেকটিতে রয়েছে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও পানির লাইন। রোববার দুপুরে পরিদর্শনকালে এসব দেখে রীতিমত অবাক চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান। পরিদর্শনের এক পর্যায়ে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘এখানে তো বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ দেয়ার কথা না। কারা এসব অনুমতি দিয়েছে তা খুঁজে বের করা হবে।’ জানা গেছে, স্বল্প আয়ে এসব বেড়ার খুপড়ি ও সেমিপাকা ঘরে ভাড়া থাকেন তারা। আর এসব ভাড়া তুলেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। আবার তাদের নেপথ্যে আছেন রাজনৈতিক নেতারা। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ এফ কবির আহমেদ মানিকের বিরুদ্ধেও। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে রোববার জেলা প্রশাসক পরিদর্শন গেলে এসব ভাড়াটিয়ারা মালিক বনে যান।
এরকম একজন শামসুন্নাহার। কুমিল্লার মুরাদনগরের এ বাসিন্দা মতিঝর্ণার ‘হোসেন সাহেবের’ পাহাড়ে স্বামী ও ছয় সন্তান নিয়ে থাকেন। জানতে চাইলে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,‘২০বছর আগে এ জায়গা কিনে নিয়েছে।’ কার কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন জানতে চাইলে তার নাম জানাতে পারেননি তিনি। এ পাহাড়ের পাদদেশে চারটি পরিবার বসবাস করে। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন,‘এসব বাড়ির মালিকদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বসবাসকারীরা নিজেদের মালিক দাবি করছেন। তবে যারা এখানে বসবাস করছেন তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস করছে অন্তত এক হাজার পরিবার। এর মধ্যে অন্তত ৩শ’ পরিবার অধিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।