চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে গণজাগরণ মঞ্চে হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে মহাসমাবেশে নারী নেত্রীরা বলেছেন, ‘ধর্মের নাম দিয়ে কেউ নারীদের অপমান করলে সেটা বাংলাদেশের নারীসমাজ মেনে নেবেনা। এ দেশ জামায়াত কিংবা হেফাজতের নয়, এ দেশ আমাদের। এ দেশ নারী-পুরুষ, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার। ধর্মের নামে রাজনীতি অতীতেও বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করেনি, ভবিষ্যতেও করবেনা।’ মহাসমাবেশ থেকে নারীনেত্রীরা ৫ মে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচী প্রত্যাহারেরও আহবান জানিয়েছেন। শুক্রবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবির বিরুদ্ধে সম্মিলিত নারী সমাজ, চট্টগ্রাম এর মহাসমাবেশ শুরু হয়।
সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই নগরীর ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল সংখ্যক নারী খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শহীদ জায়া বেগম মুশতারী শফী বলেন, ‘এদেশের নারী-পুরুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে সমানভাবে লড়াই করেছেন। রক্তে অর্জিত এদেশ আমাদের সকলের। জামায়াত-হেফাজতের নয়। তাদেরকে নিষিদ্ধ করতে হবে। এ অপশক্তি ও মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’শহীদ জায়া বেগম মুশতারী শফী বলেন,‘বৃটিশ আমল থেকে চট্টগ্রাম সবাইকে অনুপ্রাণিত করে আসছে। এবারের আন্দোলনেও চট্টগ্রাম আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করবে। দাবি আদায়ে আমাদেরকে একত্রিত হতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে মৌলবাদী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।তাদের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকবেন’ তিনি বলেন, দাবি আদায়ে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর সমাবেশ হবে। এসব কর্মসূচিতে আপনাদের সক্রিয় উপস্থিতি কামনা করছি। কর্মজীবী নারী’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও নারীনেত্রী শিরিন আখতার বলেন, ‘নারীরা দেশের অর্থনৈতিক চাকার গতি সচল রেখেছেন। নারীর অবদানের কারণে দেশের অর্থনীতি আজ অগ্রসরমান। নারীদের এ অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না। তাই নারীকে সম্মান করতে শিখুন। নারী সমাজের বিরুদ্ধে যেকোন ধরণের ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘হেফাজতের ১৩ দফা দাবি মানলে নারীদের ঘরে ফিরে যেতে হবে। কিন্তু এদেশের নারীরা ঘরে ফিরে যাবে না। তারা হেফাজতের ১৩ দফা মানেনা।’
হেফাজতে ইসলামের আমীর আহমদ শফীকে উদ্দেশ্য করে এ নারী নেত্রী বলেন, ‘আপনি একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি নারীদের ধর্ষণকারীদের বিচার দাবি করেন না, আপনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বলেন না, আপনি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চাঁদে দেখা যাওয়ার অপপ্রচারের বিষয়ে কোনো কথা বলেন না, আপনি পবিত্র কাবা শরীফের গিলাফ নিয়ে মিথ্যাচারকারী মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না, উল্টো তার মুক্তি দাবি করেন। আসলে আপনি ইসলাম রক্ষা করতে মাঠে নামনেনি। আপনি জামায়াত ইসলামকে রক্ষা করতে মাঠে নেমেছেন।’
শিরিন আখতার আগামী রোববার হেফাজতের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘সাভারের বিধস্ত ভবন থেকে এখনো লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে। জাতীয় এ দুর্যোগে বিরোধী দলসহ সকলে তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছে। আপনিও অবরোধ প্রত্যাহার করুন।’ নারীনীতি ও শিক্ষানীতি বাতিলের কর্মসূচি এদেশের মাটিতে সফল হবেনা বলেও উল্লেখ করেন শিরিন আখতার। সমাবেশের অন্যতম বক্তা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় নারী সেলের আহবায়ক লক্ষী চক্রবর্তী বলেন, ‘দেশের প্রধানমন্ত্রী-স্পিকার-বিরোধী দলীয় নেত্রী নারী। নারী সমাজের এ অগ্রযাত্রা মৌলবাদী গোষ্ঠী মেনে নিতে পারছে না। বাংলার নারী সমাজ আজ জেগেছে। নারীর এ জাগরণকে স্তব্ধ করা যাবে না। নারী সমাজকে অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নেয়া যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘মৌলবাদী গোষ্ঠীটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া নস্যাৎ করার জন্য ভিন্ন সংগঠনের নামে মাঠে নেমেছে।’ লক্ষী চক্রবর্তী আরও বলেন, ‘ধর্মকে রাষ্ট্র ও সমাজের এমন পর্যায়ে আনা উচিত নয়, যেখানে ধর্ম পণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ধর্মের নামে কিছু মৌলবাদী সংগঠনের উদ্ভব হয়েছে। যাদের হিংস্র মনোভাব দেশের নারী সমাজ প্রত্যক্ষ করেছে।’
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে হাসিনা মহিউদ্দিন বলেন, ‘হেফাজতের ১৩ দফা দাবি নারী সমাজের মনে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। এ আগুনে হেফাজত জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।’সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নারীনেত্রী নারী নেত্রী নুরজাহান খান, চন্দনাইশ উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা আক্তার চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মহিলা কাউন্সিলর রেহানা কবির রানু, নারী নেত্রী রেখা চৌধুরী, স্বপ্না হারুন লুবনা, রওশন আরা ইউসুফ, বেগম সুরাইয়া বাকের, মনিকা পাঠক, শম্পা কে নাহার, নাবিলা তানজিনা প্রমুখ।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে হাসিনা মহিউদ্দিন বলেন, ‘হেফাজতের ১৩ দফা দাবি নারী সমাজের মনে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। এ আগুনে হেফাজত জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।’সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নারীনেত্রী নারী নেত্রী নুরজাহান খান, চন্দনাইশ উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা আক্তার চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মহিলা কাউন্সিলর রেহানা কবির রানু, নারী নেত্রী রেখা চৌধুরী, স্বপ্না হারুন লুবনা, রওশন আরা ইউসুফ, বেগম সুরাইয়া বাকের, মনিকা পাঠক, শম্পা কে নাহার, নাবিলা তানজিনা প্রমুখ।
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেছেন, বাংলার নারী সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হিমালয় জয় করেছে। এদেশের নারী তার মেধা-মননশীলতায় আজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। কিন্তু হেফাজতে ইসলাম ১৩ দফার নামে নারী সমাজকে ঘরে বেঁধে রাখতে চাই।’ বিক্ষুব্ধ বক্তারা বলেন, ‘নারী সমাজ জাগলে হেফাজতে ইসলামসহ অশুভ শক্তির ঠাঁই এ বাংলার মাটিতে হবে না। নারীর অধিকার কেউ হরণ করতে পারবে না। এদেশের নারী সমাজ নয় বরং হেফাজতে ইসলামকে ঘরে ফিরে যেতে হবে।’সমাবেশে কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী মিলি চৌধুরী ও ঊর্মি রায়হান। সমাবেশের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন লতিফা কবির। মিনি ট্রাকে স্থাপিত মঞ্চে বেগম রোকেয়া ও পাকিস্তানে তালেবানের গুলিতে গুরুতর আহত মালালা ইউসুফজাইয়ের ছবি শোভা পায়। সমাবেশে সাভারে রানা প্লাজা ধসে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।



