চট্টগ্রাম, ২৬ জানুয়ারী : জনগণকে দ্রুত বিদ্যুৎ দিতে ক্যুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ ব্যবস্থাই একমাত্র সমাধান বলে মন্তব্য করে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা বলেছেন, “এসি রুমে বসে কিছু লোক ক্যুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমালোচনা করছেন।” শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া আইইবির ৫৪তম জাতীয় কনভেনশন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ হোসেন নামে আইইবির অন্য এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “ক্যুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কারণে জনগণ দ্রুত বিদ্যুৎ পাচ্ছে।
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই। সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে কিছু বুদ্ধিজীবী অহেতুক এ ব্যবস্থার সমালোচনা করছেন।” আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী নূরুল হুদা বলেন, “উন্নয়ন, অগ্রগ্রতির জন্য বিদ্যুৎ, গ্যাস আর অবকাঠামোর কোনো বিকল্প নেই। দেশের প্রয়োজন ও জনগণের চাহিদার নিরিখে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ক্যুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। একটা স্থায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে তিন থেকে চার বছর লাগে। সেক্ষেত্রে ক্যুইক রেন্টাল ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।” বর্তমান সরকারের চার বছরে কয়টি স্থায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে প্রশ্ন করা হলে আইইবি নেতারা স্থায়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “বিগত সময়ের ১৭০০ মেগাওয়াট থেকে বর্তমান সরকার আমলে ৫৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানের মাধ্যমে ৩৮৪৫ মেগাওয়াট উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। সরবরাহ করা হচ্ছে দৈনিক সর্বোচ্চ ৬৩৫০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎক্ষমতা ৮৫২৫ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়েছে। বেসরকারি খাতে তিনটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি ও রাশিয়ার সঙ্গে ২০০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি করা হয়েছে।” এক প্রশ্নের জবাবে আইইবি নেতারা বলেন, “সরকার দক্ষতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি করেছে। পানিভিত্তিক বিদ্যুতের পর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব।”বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার অধীন হংকংভিত্তিক ইঞ্জিনিয়ার্স মবিলিটি ফোরামের (ই্এমএফ) স্থায়ী সদস্য পদ অর্জনের সব শর্ত পূরণ করেছে। নয় বছর ধরে এর পর্যবেক্ষক সদস্য হিসাবে বাংলাদেশ অচিরেই এর স্থায়ী সদস্য পদ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা হবে দেশের জন্য বড় এক প্রাপ্তি। এ পর্যন্ত এশিয়া-ইউরোপের ১৫টি দেশ এর স্থায়ী সদস্য পদ পেয়েছে। ই্এমএফ স্থায়ী সদস্য হলে আইইবির সদস্য প্রকৌশলীরা আমেরিকার সর্বত্র অবাধে প্রতিযোগিতার অংশগ্রহণের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আইইবির ৫৪তম জাতীয় কনভেনশনের বিভিন্ন দিক, প্রকৌশলীদের পেশাগত মর্যাদা ও পদায়ন-পদোন্নতির সমস্যা, প্রশাসনিক বৈষম্যসহ নানা বিষয়ে সংস্থার অবস্থান ও দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।
আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মেসবাহুর রহমান টুটুল, কবির আহমদ ভূঁইয়া, খান মনজুর মোরশেদ, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. হারুন, সম্পাদক প্রকৌশলী এমএ রশিদ বক্তব্য রাখেন।
