Saturday, 26 January 2013

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে মধ্য দিয়ে ১২-ই রবিউল আওয়াল পালিত

চট্টগ্রাম, ২৫ জানুয়ারী: এয়া নবী সালাম আলাইকা, ইয়া রাসুল সালাম আলাইকা` এ শ্লোগানে দেশ বিদেশের লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুসে। এ জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ মাদ্দাজিল্লুহুল আলী। তার নেতৃত্বে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকা শরীফ থেকে শুরু হয় এ জুলুস।
জুলুস শুরু হওয়ার আগে শুক্রবার ফজর নামাজের পর থেকেই জামেয়া মাদ্রাসা , বিবিরহাট, মুরাদপুর এলাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে শুরু করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। সকাল থেকেই  “এয়া নবী সালাম আলাইকা, এয়া রাসুল সালাম আলাইকা, সবচে আওলা ও আলা হামারা নবী` ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে চট্টগ্রাম। মহানবী (সা:) এর দুনিয়াতে আগমন উপলক্ষে প্রতিবছর ১২-ই রবিউল আওয়াল বেসরকারি পর্যায়ে সবচেয়ে বড় সংস্থা আঞ্জুমান-এ-রাহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে জশনে জুলুসের আয়োজন করে থাকে। জুলুস শুরুর আগে আলমগীর খানকা শরীফে এ দিনের গুরুত্ব বর্ণণা করতে গিয়ে আল্লামা সাবির শাহ বলেন, ‌`আল্লাহ মহানবী (সা) সকল সৃষ্টির জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। তিনি পৃথিবীতে এসেই সব ধরণের কুসংস্কার বন্ধ করে মানুষকে শান্তির পথ দেখিয়েছে। তাই আল্লার প্রিয় বন্ধুর আগমনের দিন সকলের আনন্দ উদযাপন করা উচিৎ। তিনি বলেন, ‌`যারা মহানবী (সা.) কে মানেন তাদের জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের দিন। সবচেয়ে বড় দিন এটি। তাই এ জুলুস সারা পৃথিবীতে হওয়া প্রয়োজন।` কিন্তু নানা মতাদর্শের কারণে সমান গুরুত্ব দিয়ে দিবসটি পালিত না হওয়ায় দু:খ প্রকাশ করে তিনি বলেন,‌ `বিশ্বের সকল মুসলিমকে মহানবী (সা.) এর পতাকার নিচে আসা উচিত।` বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় জুলুস উদযাপন করার জন্য এদেশের সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। এসময় আঞ্জুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ মহসীন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, স্থানীয় সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদল, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন আল কাদেরী, পিএইচপি গ্রুপের পরিচালক আমীর হোসেন সোহেল উপস্থিত ছিলেন।
সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, `আল্লাহকে পেতে হলে প্রিয় নবীকে সম্মান করতে হবে। তার কৃপা ছাড়া আল্লাহ পাওয়া অসম্ভব। আল্লাহ নিজেই তার প্রিয় বন্ধুকে সম্মান দিয়েছেন।` তিনি বলেন,‌ মহানবী (সা.) দুনিয়াতে আসার কারণেই এ পৃথিবী সৃষ্টি করা হয়েছে। তাকে মানুষের জন্য রহমত হিসেবে পাঠানো হয়েছে। আর তাই আল্লার প্রিয় হাবিরের আগমন বার্তা শুনে সকল সৃষ্টিকুল সালাম জানিয়েছিল। আনন্দ উদযাপন করেছিল। তারই ধারাবাহিকতা এ জুলুস।`
পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মার শান্তি কামনা করে মুনাজাত করেন আল্লামা সাবির শাহ। এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় জুলুস শুরু হয়। জুলুস আলমগীর খানকা থেকে শুরু হয়ে বিবিরহাট, মুরাদপুর, চকবাজার, সিরাজউদ্দৌলা সড়ক হয়ে আন্দরকিল্লা, জামালাখান, লালখানবাজার, জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেইট হয়ে বেলা সাড়ে ১২টায়  জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এসে শেষ হয়।
সেখানে আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল, জুমার নামাজ আদায় ও আখেরি মোনাজাতে দেশ জাতি ও মুসলিম বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাতের মাধ্যমে কার্যক্রমের শেষ হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রামে বলুয়ারদিঘী খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া হতে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্ব প্রথম জুলুসটি বের করে আঞ্জুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া। ওই জুলুসে নেতৃত্ব দেন আঞ্জুমান ট্রাস্টের সিনিয়র সহ-সভাপতি নুর মোহাম্মদ আল কাদেরি। এরপর ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত এ জুলুসে নেতৃত্ব দেন সৈয়দ মোহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রা.)। মূলত ১৯৭৬ সালের পর থেকেই ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ১২ রবিউল আওয়াল চট্টগ্রামের জুলুসের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। যা ক্রমান্বয়ে দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, দরবার, সংগঠন ও সংস্থাগুলোও আয়োজন করতে শুরু করে। ১৯৮৬ সালের পর থেকে আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ এ জুলুসে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।