Sunday, 20 January 2013

জাবেদের `ডামি` ভোট : চোখ বন্ধ করে রেখেছে নির্বাচন কমিশন

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম-১২ (আনোয়ারা-পশ্চিম পটিয়া) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের টেলিভিশন ফুটেজের জন্য`ডামি` ভোট দেয়া নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হলেও গত চারদিনে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়নি নির্বাচন কমিশন। অনেকটা একতরফা ওই নির্বাচনে জাবেদ বিজয়ী হন। কিন্তু জাবেদের ডামি ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি হলেও নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রে চোখ বন্ধ রাখার কৌশল গ্রহণ করেছে। এ প্রসঙ্গে সাবেক নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, `ভোটার না হয়েও কেন্দ্রে গিয়ে প্রার্থী যে আচরণ করেছেন সেটা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভোটকেন্দ্র কোন নাটক মঞ্চস্থ করার জায়গা নয়।
প্রার্থীর বেআইনী আচরণের বিরুদ্ধে আইন যেভাবে সমর্থন করে, সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।`একই প্রসঙ্গে উপনির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী রিটার্ণিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ আহম্মদ খান বাংলানিউজকে বলেন, `জাবেদ সাহেব ডামি ভোট দিয়েছেন বলে কোন রেকর্ড আমাদের কাছে নেই। সাংবাদিকদের রিকোয়েস্টে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল বলে শুনেছি। কিন্তু কেউ কোন অভিযোগ আমাদের কাছে করেনি।`গত ১৭ জানুয়ারি আনোয়ারা উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ১ লক্ষ ২৪ হাজার ৯৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। প্রতিদ্বন্দ্বী একমাত্র প্রার্থী গণফোরামের উজ্জ্বল ভৌমিক পেয়েছেন ১ হাজার ৮৪৬ ভোট। জাবেদের ডামি ভোট দেয়া, কেন্দ্র থেকে এজেণ্ট বের করে দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করেন উজ্জ্বল ভৌমিক। তবে জাবেদের ডামি ভোট দেয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত কোন অভিযোগ দেননি উজ্জ্বল। অভিযোগ না দেয়ার বিষয়ে উজ্জ্বল ভৌমিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, `রিটার্ণিং অফিসারকে আমি মৌখিকভাবে জানিয়েছিলাম। তিনি আমার কথাকে পাত্তাই দেননি। রিটার্ণিং অফিসারসহ সব কর্মকর্তাই জাবেদ সাহেবের পক্ষে কথা বলেছেন। এ অবস্থায় অভিযোগ করেও কোন লাভ হবেনা ভেবে আমি আর নির্বাচন কমিশনে কোন লিখিত চিঠি দিইনি।` তবে মৌখিক অভিযোগ পাবার কথা অস্বীকার করে রিটার্ণিং অফিসার ফরহাদ আহম্মদ খান রোববার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, `আমাকে প্রার্থী উজ্জ্বল ভৌমিক মৌখিকভাবে কোন অভিযোগ করেননি। তিনি যদি এটা বলে থাকেন তাহলে মিথ্যা বলছেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া, রেকর্ড ছাড়া আমি কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবনা।` নির্বাচনের চারদিনের মাথায় রিটার্ণিং অফিসার ফরহাদ আহম্মদ খান রেকর্ড না থাকার কথা বললেও ভোটগ্রহণ চলাকালীন সময়ে বিষয়টি শুনে তিনি সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করেছিলেন, `আসলে জনগণের চাহিদা বিবেচনা করে ভোটারদের উৎসাহিত করতেই তিনি ডামি ভোট দিয়েছেন।` উল্লেখ্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ গত সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম নগরীর কোতয়ালী আসনের ভোটার ছিলেন। পিতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু মারা যাবার পর চট্টগ্রাম-১২ (আনোয়ারা-পশ্চিম পটিয়া) আসন থেকে নির্বাচন করার উদ্দেশ্যে তিনি আনোয়ারায় ভোটার হবার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন জানান। এর ভিত্তিতে ভোটগ্রহণের দিন সকাল থেকে জাবেদ এবং তার সমর্থকরা প্রচার করতে শুরু করেন, যে কোন মুহুর্তে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত জাবেদের কাছে আসবে এবং তিনি ভোট দিতে পারবেন। এসময় রিটার্ণিং অফিসার ফরহাদ আহম্মদ খানও যে কোন সময় জাবেদের আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন থেকে এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এর মধ্যে ওইদিন সকাল ৯টার দিকে জাবেদ তার বাড়ি আনোয়ারার হাইলধর ইউনিয়নের শহীদ বশরুজ্জামান স্মৃতি শিক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে যান। এসময় টেলিভিশন সাংবাদিকদের অনুরোধে তিনি ব্যালট বাক্সের কাছে গিয়ে `ডামি ভোট` দেন। জাবেদ এসময় ওই বুথে ভোট দেয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা একজন ভোটারের ব্যালট নিয়ে সেটি বাক্সে ফেলার অভিনয় করেন। এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, `উনি বাক্সে না ফেললেও কোন ব্যালট এভাবে নিতে পারেন না। আর ওই ব্যালট যে উনি বাক্সে ফেলেননি তার প্রমাণ কি ? প্রার্থী এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সঙ্গে সঙ্গে ওই ভোটকেন্দ্রের ভোট বাতিল করা যেত।` সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সভাপতি বদিউল আলম মজুমদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, `ডামি ভোটের মাধ্যমে হয়ত পুরো নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি, কিন্তু মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতে কি ধরনের নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে তা নির্বাচন কমিশনের খতিয়ে দেখা উচিৎ। আর যে প্রার্থী ভোটারই নন, এলাকায় বহিরাগত, তিনি কিভাবে ওই এলাকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবেন ? বিষয়টি হয়ত আইনের দৃষ্টিতে শুদ্ধ, কিন্তু নৈতিকতার দৃষ্টিতে সঠিক নয়।`