Wednesday, 5 June 2013

চমেক হাসপাতালের চিকিৎসকদের মানববন্ধন

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড ইউনিট। বুধবার বেলা সাড়ে ১২টা। এ সময়ে এ ওয়ার্ডে থাকার কথা ছিল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ হাসান চৌধুরীর। কিন্তু ওয়ার্ডে গিয়ে তার কক্ষ তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। ডা. এম এ হাসান কোথায় জানতে চাইলে ওয়ার্ডে দায়িত্বরত কর্মচারী ইয়াহিয়া সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘স্যার মিটিংয়ে গেছেন।’ কিসের মিটিং জানতে চাইলে বলেন, ‘এক ডাক্তারকে নাকি জেলে নিয়েছে। এর প্রতিবাদে হাসপাতালের সামনে ডাক্তার স্যারদের একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে। ওখানে গেছেন স্যার।’ অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শরীর থেকে নিডেল বের করতে ভুলে যাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত চিকিৎসক সুরমান আলীকে আদালত সোমবার কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রতিবাদে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন বুধবার বেলা ১২টার দিকে নগরীর প্রবর্তক মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি আহবান করে। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস ও চেম্বারে রোগী দেখার ব্যাপারে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট আহবান করে।

বুধবার পৌনে ১২টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত ডা. এম এ হাসানের মত প্রায় সব চিকিৎসক হাসপাতালে রোগী দেখা বাদ দিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এতে চিকিৎসকশূন্য হাসপাতালে রোগীরা বিপাকে পড়েন। চিকিৎসকদের এ কর্মসূচির কারণে এসময় বন্ধ থাকে হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। এসময় রোগী ও তাদের স্বজনরা চিকিৎসকদের জন্য অপক্ষোরত অবস্থায় সময় পার করে। তবে এসময় জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। এদিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের এ ধর্মঘটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে ক্যাব নেতারা। তারা এ ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য বিএমএ নেতাদের প্রতি আহবান জানান।


বুধবারের মানবববন্ধন কর্মসূচিতে চিকিৎসককে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে বক্তব্য রাখেন ডা. শাহানারা। প্রবর্তক মোড়ে তিনি যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন সে সময় তার দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে। ডা. শাহানারার মত খোদ বিএমএ’র সভাপতি ও চমেক হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. মুজিবুল হক খান, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বিএমএ কেন্দ্রীয় সদস্য এবং চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন মাহমুদ, সার্জন অব অ্যানেসথেশিয়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আহমেদ, ডা. নূর হোসেন ভূঁইয়া শাহীন, আলোক কুমার রাহাদেরকে হাসপাতালের দায়িত্ব বাদ দিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। এদিকে বুধবার বেলা ১২টার পর চমেক হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন ওয়ার্ডের সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার, এইচএমও এবং ইনডোর মেডিকেল অফিসাররা তাদের কক্ষ তালাবদ্ধ করে অথবা ফাঁকা রেখে চলে যান।  এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএমএ’র চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,‘আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় এ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি। তবে আমাদের এ কর্মসূচি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমের আওতামুক্ত। তাই রোগীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

এদিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে কারাগারে প্রেরণ করার প্রতিবাদে বিএমএ’র উদ্যোগে চিকিৎসকরা মৌন মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। তাদের মৌন মিছিলটি চমেক হাসপাতাল ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে প্রবর্তক মোড়ে এসে শেষ হয়। সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন চিকিৎসকরা। তাদের এ কর্মসূচির কারণে ওই সময় নগরীর ব্যস্ততম প্রবর্তক মোড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিএমএ’র নেতারা বিএমডিসির বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে তদন্ত করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানান। দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট কর্মসূচি অব্যাহত থাকবেন বলে জানান বক্তারা।