কে এম রুবেল (চট্টগ্রাম) : গত ১৭/১২/২০১২ ইং তারিখ অনুমান ০৬.০০ ঘটিকার সময় অত্র থানাধীন হালিশহর হা/এ বি-ব্লকস্থ বাসা নং-০৮ এর দঃ/পূর্ব পার্শ্বে ৩নং রোডের ১নং লেইনের পূর্ব মাথায় বাদীর ছেলে ইয়াছিন আরাফাত @ আবির খেলাধুলা করতে যাইয়া আর ফিরিয়া আসে নাই ।
পরবর্তীতে ১৮-১২-২০১২ ইং তারিখ অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার সময় সীতাকুন্ড থানাধীন কালুশাহ নগর এলাকায় টোল-রোডের পাশে অজ্ঞাতানামা লোকজন বাদীর ছেলেকে হত্যার করে ফেলে দিলে সীতাকুন্ড থানার পুলিশ কর্তৃক বাদীর ছেলে ভিকটিম ইয়াছিন আরাফাত আবিরের লাশ উদ্ধার করার সংবাদ পাইয়া বাদী সীতাকুন্ড থানায় যাইয়া বাদীর ছেলেকে সনাক্ত করেন এবং অজ্ঞাতনামা আসামীগন কর্তৃক তাহার ছেলেকে হত্যা করার এজাহার দায়ের করিলে সূত্রোক্ত মামলা রুজু হয়। মামলাটি রুজু হওয়ার পর হালিশহর থানার পুলিশ ঘটনাটি সব্বোর্চ গুরুত্ব দিয়া জড়িত আসামীদের সনাক্ত সহ অজ্ঞাতনামা আসামীদেরকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে বিরামহীন ভাবে অভিযান পরিচালনা করিতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) জনাব মোঃ সুজায়েত উল্ল্যাহর পরিকল্পনায় এবং দিক নির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হালিশহর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহজাহান কবির এর নেতৃত্বে এসআই/দোলন বিশ্বাস, এসআই/মোঃ জাবেদ উল ইসলাম, এসআই/ মোজাম্মেল হক,এসআই/মোঃ অলি উল্ল্যাহ, ফোর্স সহ আলোচ্য মামলার ঘটনায় জড়িত আসামী সহ অন্যান্য অফিসার ও ফোর্স সমন্বয়ে(১) মোঃ ফারুক(২৫) পিতা-মৃত আঃ কাদির গোলদার, সাং-চরকুরালিয়া, গোলদার বাড়ী, থানা-হাইমচর, জেলা-চাঁদপুর, (২) মোঃ ইদ্রিস মিয়া (২৮)পিতা-মৃত ইসমাইল মিয়া, সাং-ছাতকছড়া, ইসমাইল মিয়ার বাড়ী, থানা-কমলগঞ্জ, জেলা-মৌলভী বাজার, (৩) রাবেয়া বেগম(২৩) স্বামী-ইদ্রিস মিয়া, সাং- ছাতকছড়া, ইসমাইল মিয়ার বাড়ী, থানা-কমলগঞ্জ, জেলা-মৌলভী বাজার, (৪) মোঃ সুজন (২৪) পিতা-সোবাহান হাওলাদার, সাং-আদর্শ গ্রাম হাওলাদার বাড়ী, থানা-হাইমচর, জেলা-চাঁদপুরকে চঁন্দগাও থানাধীন সি.এন্ড.বি এলাকা হইতে এবং (৫) মোঃ আনোয়ার (২৪)পিতা-রফিজল ডালি, সাং-মোল্লাকান্দি, টাইটচর, থানা-হাইমচর, জেলা-চাঁদপুরকে তাহার গ্রামের বাড়ীর ঠিকানা হইতে আটক করি। আসামী মোঃ ফরুক মৃত শিশু আবিরের বাড়ীর ভাড়াটিয়া ছিল। আসামী সুজন ফারুকের একই এলাকার বাসিন্দা, আসামী ইদ্রিস ও সুজন প্রায়ই সময় ফারুকের বাসায় আসা যাওয়া করিত। ঘটনার এক মাস পূর্ব হইতে আসামী সুজন ফারুকের জমিদারের নাতি শিশু আবিরকে অপহরন ও মুক্তিপন আদায়ের পরিকল্পনা নেয়। হালিশহর থানাধীন খালপাড় এলাকায় একবার এবং পরবর্তীতে ফইল্ল্যাতলী বাজারে ২য় বার ফারুক, সুজন ও ইদ্রিস পরিকল্পনা করে। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আসামী ফারুক ইদ্রিসের সিএনজি নিয়া ইদ্রিস সহ বি-ব্লক যায়। এবং বাসার সামনে খেলাধুলা করার সময় শিশু আবিরকে হাত ধরে ফারুক সিএনজির নিকট আনিয়া সিএনজিতে তুলিয়া ইদ্রিসের বাসায় যায়। শিশু আবিরের মায়ের ভূমিকায় ইদ্রিসের স্ত্রী রাবেয়াকে নিয়ে একই সিএনজিতে অলংকার মোড় রওয়ানা দেয়। যাওয়ার পথে ফ্রুটো জুস এর সাথে ট্যাবলেট মিশাইয়া দিয়া আবিরকে খাওয়ায়। অংলকার মোড় হইতে সুজন ও আনোয়ার সিএনজিতে উঠে। এ,কে,খান মোড়ে যাইয়া সুজন সিলেট যাওয়ার জন্য ৩টি টিকেট ক্রয় করে। কিন্তু বাসের সময় সুচী রাত্র ১১.৩০ ঘটিকায় হওয়ায় সজন নিজে বাস স্ট্যান্ডে অপেক্ষা করে এবং তাহাদের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে বলে। বাসের সময় হলে সুজন রিং দিয়ে আসতে বলে। তখন সিএনজি ইদ্রিস চালায়। ফারুক, আনোয়ার ও রাবেয়া শিশু আবিরকে নিয়া পিছনে বসে। তাহারা প্রথমে কুমিরা যায়। কিন্তু আবির যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকিলে লোকজন না দেখার জন্য একটি চাদর সিএনজির দরজায় ঢেকে রাখে। আবিরের অতিরিক্ত কান্না দেখে ফারুক, সুজনকে ফোন দিলে সুজন মোবাইলে জানায় মারিয়া ফেলতে না হয় সবাই জেনে যাবে। তখন পুনরায় কুমিরা হইতে শহরে আসার পথে আনোয়ার ও ফারুক গলা টিপিয়া শিশু আবিরকে মারিয়া ফেলে এবং টোল রোডের পাশে ফেলিয়া দেয়। পরে সবাই শহরে চলিয়া আসে। ঘটনার ১৫/২০ দিন পর সুজন নতুন সিম কিনে তাহার মোবাইল থেকে আবিরের পরিবারকে পুনরায় হুমকি প্রদান করে ও টাকা চায়। পুলিশ হত্যা কান্ডে ব্যবহৃত চাদর ও সুজনের মোবাইল উদ্ধার করে। আসামী ফারুক, ইদ্রিস ও রাবেয়া আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি প্রদান করেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে।